সাদেকা হালিমসহ ৩ শিক্ষক ও এক কর্মকর্তা বরখাস্ত, ৪ শিক্ষককে অব্যাহতি

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি পৃথক অভিযোগে আরও চার শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগ এবং বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অর্থায়নে পরিচালিত ‘হেকেপ’ প্রকল্পের গবেষণা কার্যক্রম পর্যালোচনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে অশিক্ষকসুলভ আচরণ, নৈতিক স্খলনসহ বিভিন্ন অভিযোগে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এবং তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক ড. আফরোজা শেলীকেও সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থি কর্মকাণ্ড, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিতকে বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

একই ধরনের অভিযোগে ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সারা শামসুর রউফ এবং শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম (রফিক শাহরিয়ার)-কেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, বিভাগের বিভিন্ন অনিয়ম এবং এমফিল ও পিএইচডি গবেষণাপত্রে সাদৃশ্যমূলক চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সিন্ডিকেট সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা যাচাইয়ে প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদের ডিন ওই কমিটির সদস্য থাকবেন।

এ ছাড়া একই সময় বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অর্থায়নে পরিচালিত ‘হেকেপ’ প্রকল্পের গবেষণা কার্যক্রম এবং প্রকল্পের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কি না, তা পর্যালোচনায় প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সভায় জুলাইয়ের চেতনা বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে অফিস শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ কে এম মাহবুব মুস্তাফাকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক ভবনসংলগ্ন মলচত্বরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ‘জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ আগস্ট স্মৃতিস্তম্ভটির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970