২৯ কোটি টাকায় নতুন সফটওয়্যার, প্রশ্ন প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৫, ১১:৫১ এএম

ছবি: সংগৃহীত

দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর ভারী চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সচল আছে কি না, তা জানার জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় নতুন একটি সফটওয়্যার তৈরি ও ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েছে। এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৯ কোটি টাকা। অথচ, এর আগেও বিদেশি অর্থায়নে প্রায় সমপরিমাণ ব্যয়ে একই ধরনের একটি সফটওয়্যার চালু করা হয়েছিল, যা যথাযথভাবে ব্যবহার না হওয়ায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে নতুন করে ব্যয়বহুল প্রযুক্তি স্থাপন কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সূত্র জানায়, আগের সফটওয়্যারটি যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি তৈরি করেছিল। প্রতিটি যন্ত্রে কিউআর কোড যুক্ত করে যন্ত্রের অবস্থা জানা যেত, কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরস ডিপো (সিএমএসডি) প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তাছাড়া ন্যাশনাল ইলেকট্রো-মেডিকেল ইক্যুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (নিমিউ অ্যান্ড টিসি) বিকল যন্ত্রের তথ্য জানলেও তা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেনি। ফলস্বরূপ, ব্যয়বহুল প্রযুক্তিটি কার্যত অকেজো হয়ে পড়ে।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে ইউএসএআইডির অর্থায়নে ‘অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ নামে যে সফটওয়্যার তৈরি হয়েছিল, তাতে ৪০টিরও বেশি জেলা যুক্ত ছিল এবং সেটি পরবর্তীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে হস্তান্তর করা হয়। প্রয়োজন অনুসারে সেটি হালনাগাদ করার সুবিধাও ছিল, কিন্তু তা ব্যবহার না করেই এখন নতুন সফটওয়্যারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

চলতি বছরের ১৮ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিমিউ অ্যান্ড টিসিকে চিঠি দিয়ে ‘মেডিকেল ইক্যুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ইনফরমেশন অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেম’ চালুর নির্দেশ দেয়। এর মাধ্যমে এমআরআই, সিটি স্ক্যান, এক্স-রে, কোবাল্ট, ব্র্যাকিথেরাপি ও লিনিয়ার অ্যাক্সিলারেটরের মতো উন্নত যন্ত্রপাতি সার্বক্ষণিক সচল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রথমে এই সফটওয়্যারের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, কিন্তু পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৯ কোটি টাকা। প্রকৌশলীদের মতে, এ ধরনের প্রকল্পে সর্বোচ্চ ৮ থেকে ১০ কোটি টাকার ব্যয়ই যৌক্তিক। তাদের অভিযোগ, অজানা কারণে ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।

নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত থাকবে এবং বিকল হলে সঙ্গে সঙ্গে নোটিফিকেশন পাঠানো হবে, যাতে দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তবে দেশে বিদ্যমান যন্ত্রপাতির অর্ধেকও কম্প্রিহেনসিভ মেইনটেন্যান্স কন্ট্রাক্ট (সিএমসি)-এর আওতায় নেই, ফলে প্রযুক্তির সুফল সীমিত হতে পারে।

অন্যদিকে, সফটওয়্যারটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব উভয়ই থাকবে নিমিউ অ্যান্ড টিসি-র হাতে, যা স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কারণ, যন্ত্র নষ্ট হলে মেরামতের সিদ্ধান্তও তাদেরই নিতে হবে।

চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ১১৪টি সরকারি হাসপাতালের প্রায় ৩০০টি যন্ত্রকে এই সিস্টেমের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এমআরআই, সিটি স্ক্যান, এক্স-রে ও রেডিওথেরাপি যন্ত্রে।

বর্তমানে দেশের প্রায় ৭০০ সরকারি হাসপাতালের যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা নিমিউ অ্যান্ড টিসি জানায়, তাদের হাতে বর্তমানে ৫০০-রও বেশি যন্ত্র মেরামতের অপেক্ষায় আছে। এর মধ্যে অনেক উচ্চ প্রযুক্তির যন্ত্রও রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির চিফ টেকনিক্যাল ম্যানেজার জয়ন্ত কুমার মুখোপাধ্যায় জানান, ৪১৫টি যন্ত্র মেরামতের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে এবং আরও কিছু যন্ত্রের পরিদর্শন চলছে। তবে জনবল স্বল্পতার কারণে পুরো প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগছে, কারণ প্রতিষ্ঠানের ৯৫টি পদের মধ্যে ৫৮টি এখনো শূন্য।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান বলেন, “আগে এ ধরনের কোনো সফটওয়্যার ছিল কি না, আমি জানি না। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এখনো অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় প্রকল্পটি চালু করা সম্ভব হয়নি।”

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970