‘ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে ভারতের হাত’, অমিত শাহের বিরুদ্ধে অভিযোগ মমতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা হারানোর কিছুদিন পর কলকাতার ধর্মতলায় এক অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের সদ্যসাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মঙ্গলবার দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান অভিযুক্তরা মেঘালয় সীমান্ত হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করার পর রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তাদের গ্রেপ্তার করেছিল। তবে ওই তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ না করার জন্য ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মমতার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের স্বার্থের কথা উল্লেখ করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে বিষয়টি গোপন রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তার এই দাবির পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড এবং এর সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক প্রভাব।

৩২ বছর বয়সী শরিফ ওসমান বিন হাদি বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা মুখপাত্র ছিলেন। ঝালকাঠির এক মাদ্রাসা শিক্ষকের সন্তান হাদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর তিনি দেশের রাজনীতিতে ভারতবিরোধী অবস্থানের কারণে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। একইসঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিও তুলেছিলেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে দ্রুত উত্থান ঘটায় তরুণদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন তিনি।

তবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেই ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় সশস্ত্র হামলার শিকার হন ওসমান হাদি। জুমার নামাজ শেষে রিকশাযোগে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা কাছ থেকে তার মাথায় গুলি করে।

প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পরে এভারকেয়ার হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও বিক্ষোভ দেখা দেয়।

তদন্তে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, হামলার মূল শুটার ছিলেন ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেন। হত্যাকাণ্ডের পর তারা ভারতে পালিয়ে যান বলে তদন্তে উঠে আসে।

পরবর্তীতে চলতি বছরের মার্চ মাসের শুরুতে ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনার বনগাঁ এলাকা থেকে ওই দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ। সীমান্ত অতিক্রমে সহায়তার অভিযোগে ফিলিপ সাংমা নামের আরও একজনকে আটক করা হয়।

ধর্মতলার কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাংলাদেশের একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্তদের পশ্চিমবঙ্গের এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল। এরপর ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে ফোন করে বিষয়টি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।

তিনি আরও বলেন, এতদিন বিষয়টি প্রকাশ করেননি। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তিনি মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন। যদিও দেশের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম এখনো প্রকাশ করতে চান না বলে জানান তিনি।

মমতার এই বক্তব্য ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তার অভিযোগ সত্য হলে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড কেবল একটি রাজনৈতিক হত্যার ঘটনা নয়, বরং তা বৃহত্তর আঞ্চলিক ও ভূরাজনৈতিক প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970