বিএনপি নেতাকে মারধর ও ছিনতাইয়ের পর আওয়ামী লীগ কর্মীদের ভূরিভোজ
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ১১:২০ পিএম
বরিশালের মুলাদী উপজেলায় এক বিএনপি নেতাকে মারধর করে তার কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার এবং সেই অর্থে ভূরিভোজ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ১০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম বোয়ালিয়া গ্রামের মোসলেম ব্যাপারীর বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে একই দিন গভীর রাতে স্থানীয় একটি বাড়িতে ভোজের আয়োজন করা হয় বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারী পক্ষ।
মামলার বাদী আল আমিন হাওলাদার জানান, তার বাবা আব্দুল মান্নান হাওলাদার বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে পশ্চিম বোয়ালিয়া গ্রামের মোসলেম ব্যাপারীর বাড়ির সামনে পৌঁছালে একদল ব্যক্তি তার পথরোধ করেন। এ সময় হামলাকারীরা হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং আব্দুল মান্নান হাওলাদার ও তার ভাতিজা মিরাজ হাওলাদারকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, হামলার একপর্যায়ে আব্দুল মান্নান হাওলাদারের কাছে থাকা ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে ওই অর্থ দিয়ে ভোররাতের দিকে ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়।
আহতদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় আল আমিন হাওলাদার বাদী হয়ে সেলিম ব্যাপারী, জসিম ব্যাপারী, সফিক ব্যাপারী, হায়দার ব্যাপারী, স্বপন ব্যাপারী, দুলাল ব্যাপারী, কাসেম ব্যাপারী, আরিফ ব্যাপারী, শাহ আলম ব্যাপারী ও মিলন ব্যাপারীকে আসামি করে মুলাদী থানায় মামলা দায়ের করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সেলিম ব্যাপারী। তার দাবি, ছিনতাই বা ভূরিভোজের কোনো ঘটনা ঘটেনি। কুরবানির চামড়া রাস্তার ওপর ফেলে রাখাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা করা হয়েছে। এছাড়া যে আয়োজনকে ভূরিভোজ বলা হচ্ছে, সেটি ছিল তাদের পারিবারিক মিলনমেলার অংশ।
এ বিষয়ে মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার মো. সোহেল রানা জানান, মারধরের ঘটনায় ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।