ভারতে মুসলিম ফেরিওয়ালাকে কুপিয়ে হত্যা, বাধ্য করা হতো ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলায় এক মুসলিম ফেরিওয়ালাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতের পরিবার এই হত্যাকাণ্ডকে ধর্মীয় বিদ্বেষ ও মুসলিমবিরোধী পরিবেশের ফল বলে দাবি করেছে। তবে স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় ধর্মীয় বিদ্বেষের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ভারতীয় গণমাধ্যম ‘দ্য ওয়্যার’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত ব্যক্তির নাম আকবর মণ্ডল (৪৭)। গত ৯ জুন তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
নিহতের ছেলে জুলফিকার জানান, তার বাবা ওই দিন সকালে স্টিলের বাসনপত্র নিয়ে ফেরি করতে বের হয়েছিলেন। পরে সুপুরিধি গ্রামের একটি বাড়িতে তাকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। সেখানে প্রথমে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় এবং পরে কুড়াল ও ছুরিকাঘাতে তাকে হত্যা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, দুপুরের দিকে বান্দওয়ান থানার পুলিশ ফোন করে জানায় তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে এবং হাসপাতালে যেতে বলা হয়। হাসপাতালে গিয়ে তিনি বাবার মরদেহ দেখতে পান।
জুলফিকারের দাবি, তাদের এলাকায় ফেরিওয়ালাদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে প্রায়ই হয়রানির শিকার হতে হতো এবং ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করা হতো। তার অভিযোগ, এই বিদ্বেষমূলক পরিবেশের কারণেই তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে।
তবে পুলিশ সুপার ভৈভব তিওয়ারি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে এটি ব্যক্তিগত বিরোধের কারণেও হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের কোনো প্রমাণ মেলেনি বলে দাবি পুলিশের।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
নিহতের পরিবার জানায়, আকবর দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ফেরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং তিনি স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে বলেও জানান স্বজনরা।
এদিকে, এলাকায় আরও কয়েকটি পূর্ববর্তী ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা, যা তাদের মধ্যে ভীতি তৈরি করেছে বলে দাবি করা হয়।