বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতানো সঞ্জয়ের অজানা যত তথ্য
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ডিজে ও মিউজিক প্রডিউসার সঞ্জয় দেব পারফর্ম করে আলোচনায় এসেছেন। বিশ্বের নামকরা শিল্পীদের সঙ্গে একই মঞ্চে তার উপস্থিতি লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সঞ্জয় দেবের পারিবারিক শিকড় সুনামগঞ্জে। তিনি সুনামগঞ্জ পৌর শহরের হাছননগর এলাকার বিশিষ্ট চিকিৎসক প্রয়াত ডা. ধীরেন্দ্র দেব চৌধুরীর নাতি। তার মা মিতা দেব সুনামগঞ্জের একটি সাংস্কৃতিক পরিবারের সন্তান এবং নিজেও সংগীতচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে ছোটবেলা থেকেই সংগীতের পরিবেশে বড় হয়েছেন সঞ্জয়।
১৯৯১ সালের ১৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জন্ম নেওয়া সঞ্জয় পরবর্তীতে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ক্যালিফোর্নিয়ার সান জোসেতে বেড়ে ওঠা তিনি এভারগ্রিন ভ্যালি হাই স্কুল, ডি আনজা কলেজ এবং সান জোসে স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেন। ব্যবসায় শিক্ষা সম্পন্ন করলেও তার মূল আগ্রহ ছিল সংগীত ও সাউন্ড প্রোডাকশনে।
লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক এই ইলেকট্রনিক মিউজিক প্রডিউসার তার সঙ্গী ও নির্বাহী প্রযোজক কুণাল আগরওয়ালের সঙ্গে কাজ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘শাংরি-লা’, ‘আইইউএফ (অবভি)’, ‘ওয়ান ইন এ মিলিয়ন’ এবং গুরু রান্ধাওয়ার অ্যালবাম ‘ম্যান অব দ্য মুন’-এর একাধিক গান।
বিশ্বকাপ উপলক্ষে তার পরিবেশিত অফিসিয়াল গান ‘সির সির’ বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মরক্কোতে ধারণ করা এই গানের ভিডিও ৮ জুন ফিফার অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশের পর অল্প সময়েই কোটি কোটি দর্শক দেখেছেন।
পারফরম্যান্স নিয়ে নিজের অনুভূতি জানিয়ে সঞ্জয় দেব বলেন, একজন অভিবাসীর সন্তান হিসেবে ঘরের স্টুডিও থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে পৌঁছানো তার জন্য অবিশ্বাস্য এক অভিজ্ঞতা।
তার এই অর্জনে সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশ না নিলেও সঞ্জয়ের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে দেশের উপস্থিতি নতুন এক গর্বের অধ্যায় তৈরি করেছে।
বিশ্বকাপ উপলক্ষে সঞ্জয় লাল-সবুজ পতাকা ও রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মোটিফ ব্যবহার করে বিশেষ জ্যাকেটও তৈরি করেছেন বলে জানা গেছে, যা তার শেকড়ের প্রতি ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।