রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলায় সোহেল রানা এবং স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণাকালে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, হত্যার আগে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছিল এবং তার শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া সোহেল রানা আদালতে স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করলেও পরে সেই জবানবন্দি প্রত্যাহারের কোনো আবেদন করেননি। আদালতের মতে, এতে তার স্বীকারোক্তির স্বতঃস্ফূর্ততা প্রতীয়মান হয়েছে। একই সঙ্গে স্বামীকে পালাতে সহযোগিতা করায় স্বপ্না আক্তারের সম্পৃক্ততাও প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
রায়ের আগে সকালেই দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা উপলক্ষে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
এর আগে ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায়ের দিন ধার্য করেন। মাত্র চার কার্যদিবসে বিচারিক কার্যক্রম শেষ হওয়ায় মামলাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
গত ১৯ মে সংঘটিত এ ঘটনার পর শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। পাঁচ দিনের মাথায় তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ঈদুল আজহার ছুটির মধ্যেও বিশেষ ব্যবস্থায় বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরদিন মামলার বাদীসহ ১৬ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন এবং একই দিনে জেরা শেষ হয়। পরে আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে সোহেল রানা নিজের দায় স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু আদালতে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানান। অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী সোহেল রানার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে সাত বছরের সাজা প্রার্থনা করেন।
আদালত শেষ পর্যন্ত দুই আসামিকেই মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। রায় কার্যকর হওয়ার আগে আইন অনুযায়ী উচ্চ আদালতে আপিল ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।