রায়ের আগে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দোয়া পড়ছিলেন সোহেল রানা, কাঁদছিলেন স্বপ্না
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্বপ্না খাতুনকে আদালতে আনা হয়। এরপর সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে প্রিজনভ্যানে করে কারাগার থেকে আনা হয় সোহেল রানাকে। তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। পরে বেলা ১০টা ৪৫ মিনিটে মাথায় হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সোহেল রানাকে আদালতের এজলাসে তোলা হয়। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তাকে দোয়া পড়তে দেখা যায়। তার পাশে থাকা স্বপ্না খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়েন বলে জানান দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য রোববার দিন নির্ধারণ করেছিলেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার কাঁধ থেকে দুই হাত আংশিক বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল। পরে একটি বালতির ভেতর থেকে শিশুটির মাথা উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পরদিন ২০ মে ভোরে রামিসার বাবা পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। একই দিনে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করেন।
পরবর্তীতে ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলাটি ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ট্রাইব্যুনাল ১ জুন অভিযোগ গঠন করে পরদিন সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন।
গত মঙ্গলবার মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার মাত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যেই আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।