তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল রেখে আপিল বিভাগের রায়

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২৫, ১০:০৪ এএম

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল রেখে আপিল বিভাগের রায়। ছবি: সংগৃহীত

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বহাল রেখে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করেছে আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করেন।

শুনানিতে আবেদনকারী ও রাষ্ট্রপক্ষ উভয়ই সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার পুনরুজ্জীবন চেয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রায়ের ফলে ব্যবস্থা আবার সংবিধানে যুক্ত হলেও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না। তারা বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার চতুর্দশ জাতীয় নির্বাচনের সময় থেকে কার্যকর হতে পারে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে।

গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন গ্রহণ করে আদালত। এরপর ২১, ২২, ২৩, ২৮, ২৯ অক্টোবর এবং ২, ৪, ৫, ৬ ও ১১ নভেম্বর টানা শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

বিভিন্ন পক্ষের পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজনের প্রতিনিধিত্বকারী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া, ইন্টারভেনার এহসান এ সিদ্দিক, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শিশির মনির, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেনের পক্ষে এস এম শাহরিয়ার এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে জয়নুল আবেদীন ও রুহুল কুদ্দুস। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয় ১৯৯৬ সালে, যা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করে। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে হাইকোর্টে রিট করা হয়। ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট রিট খারিজ করে সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করে। পরে এর বিরুদ্ধে ২০০৫ সালে আপিল করা হলে ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করেন।

এ রায়ের পর ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয় সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়।

তবে গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তি—তোফায়েল আহমেদ (প্রয়াত), এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান। ১৬ অক্টোবর পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া ২৩ অক্টোবর আবেদন করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। নওগাঁর বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও গত বছর একই ধরনের আবেদন করেন।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970