হেফাজতের সঙ্গে বৈঠক ৭ ইসলামি দলের, নতুন জোটের আভাস

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৮ এএম

ছবি: সংগৃহীত

হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে কওমি ধারার সাতটি ইসলামি দল ভবিষ্যতে একসঙ্গে চলার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্যে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এই ঐক্য প্রক্রিয়া সফল হলে ভবিষ্যতে নতুন একটি রাজনৈতিক জোট গঠনের পথও তৈরি হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলা বৈঠকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তিনজন করে প্রতিনিধি অংশ নেন। পাশাপাশি হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অন্তত ২০ জন নেতা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, সাতটি ইসলামি দল ঐক্যবদ্ধভাবে পথচলার বিষয়ে একমত হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই এই ঐক্য কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সভায় অংশ নেওয়া নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হেফাজতে ইসলাম নিজেকে অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে পরিচয় দিলেও এর অনেক শীর্ষ নেতার নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। অতীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কওমি ধারার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভিন্ন ভিন্ন জোটে অংশ নেওয়ায় তাদের মধ্যে দূরত্ব ও বিভক্তি তৈরি হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে। অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন শেষ পর্যন্ত কয়েকটি আসনে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে সমঝোতায় নির্বাচনে অংশ নেয়। আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও ইসলামী ঐক্যজোট পৃথকভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।

নির্বাচনের পর জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতায় যাওয়া কয়েকটি দলের সঙ্গে হেফাজতের শীর্ষ আলেমদের একটি অংশের দূরত্ব তৈরি হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পরে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ১১-দলীয় ঐক্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। একই সময়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক হেফাজতের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জানান, জামায়াতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিল রাজনৈতিক, আদর্শিক নয়।

সভাসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, হেফাজতের আমির কওমি ধারার দলগুলোর মধ্যে বিভক্তি ও পারস্পরিক সমালোচনার অবসান চান। এ লক্ষ্যে প্রতিটি দলের কাছে লিখিত প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। দলগুলো নিজ নিজ ফোরামে আলোচনা শেষে প্রস্তাব জমা দেবে। এরপর আগামী আগস্টের শুরুতে আরেকটি বৈঠকে সম্ভাব্য ঐক্যের কাঠামো ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা হবে।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, আপাতত সাতটি দল ঐক্যবদ্ধ থাকার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে কী ধরনের কাঠামোয় তারা একসঙ্গে চলবে, তা লিখিত প্রস্তাবের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। হেফাজতে ইসলামের আমিরের প্রত্যাশা, এসব দল অন্য কোনো রাজনৈতিক জোটে না গিয়ে নিজেদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, সাতটি দলের আকিদা ও বিশ্বাস কাছাকাছি হওয়ায় তাদের মধ্যে ঐক্যের ভিত্তি রয়েছে। তবে সেই ঐক্যের কাঠামো কী হবে, তা পরবর্তী বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে।

এদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল কওমি ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব কমানো। এখন পর্যন্ত নতুন কোনো রাজনৈতিক জোট গঠনের সিদ্ধান্ত হয়নি।

খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমীও জানান, ইসলামি দলগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে হেফাজতে ইসলাম। দলগুলোর কাছ থেকে লিখিত প্রস্তাব পাওয়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট নেতাদের মতে, আগস্টের শুরুতে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে সাত দলের সম্ভাব্য ঐক্যের রূপরেখা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ হতে পারে। সেই প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত নতুন রাজনৈতিক জোটে রূপ নেয় কি না, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

সূত্র: প্রথম আলো

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970