এবারের নির্বাচন কোনো গোঁজামিলের হবে না, ১২ ফেব্রুয়ারিতেই ভোট: প্রধান উপদেষ্টা
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৫ পিএম
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এবারের নির্বাচন ও গণভোট সফলভাবে করতেই হবে। যে যাই বলুক না কেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচন কোনো গোঁজামিলের নির্বাচন হবে না।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দল—সবার। এ বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বৈঠকে জামায়াত প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান। এ সময় উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, আদিলুর রহমান খান এবং মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
বৈঠকে নির্বাচনের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা জানান, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে তারা পূর্ণোদ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন। পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তাদের প্রচারণাও চলবে।
নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে জামায়াত নেতারা প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে যেকোনো জরুরি তথ্য, অভিযোগ বা মতামত সরকারকে জানাতে হবে। তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হবে এবং প্রয়োজন হলে সরকার ব্যবস্থা নেবে।
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, খুব দ্রুত ভোটকেন্দ্রগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। অধিকাংশ কেন্দ্রে জানুয়ারির মধ্যেই সিসি ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য বডি ক্যামেরার ব্যবস্থাও থাকবে, যা কন্ট্রোল রুম থেকে মনিটর করা হবে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচারণা নিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আইনি কোনো বাধা নেই। অন্তর্বর্তী সরকার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত হওয়ায় সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই তাদের দায়িত্ব।
নির্বাচনকালীন স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তিতে সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অভিযোগ গ্রহণের জন্য একটি হটলাইনও চালু থাকবে।
নির্বাচনে জয়-পরাজয় যাই হোক না কেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচন সফল করা এবং দেশের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।