ঈদ যাত্রায় ভোগান্তি: দূরপাল্লার বাসে গুনতে হচ্ছে ২০০-৮০০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের চাপে রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে চরম ভোগান্তি। দূরপাল্লার বাসের টিকিট পেতে হিমশিম খাচ্ছেন যাত্রীরা, আর টিকিট পেলেও গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। বিভিন্ন স্থানে ২০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ঢাকায় বসবাসকারী মুজিবুর রহমান শরীফ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বরগুনায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। তিনি জানান, সায়েদাবাদে মেঘনা পরিবহনের কাউন্টারে গিয়ে জ্বালানি অনিশ্চয়তার কারণে টিকিট বিক্রি বন্ধ পান। পরে কল্যাণপুর থেকে শ্যামলী পরিবহনের চারটি টিকিট কিনতে বাধ্য হন।

সাধারণ সময়ে যেখানে ভাড়া ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে থাকে, সেখানে তাকে প্রতি টিকিট ১ হাজার ২০০ টাকা দিতে হয়েছে। এতে চারটি টিকিটে প্রায় দুই হাজার টাকা বেশি নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মুজিবুর রহমান আরও বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া গোপন রাখতে মূল টিকিটের পরিবর্তে ‘টোকেন’ দেওয়া হচ্ছে। পরে নির্ধারিত সময়ের কিছু আগে সেই টোকেন দেখিয়ে আসল টিকিট নিতে বলা হয়। এতে অনেক যাত্রী প্রতারিত হচ্ছেন।

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আরও অনেক যাত্রী। তারা জানান, ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে টিকিট কিনতে গিয়ে প্রতি টিকিটে ২০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে, যা বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় বেশি।

তবে সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম দাবি করেছেন, অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কোনো অভিযোগ তার কাছে আসেনি। তিনি বলেন, সাধারণত ভাড়া সরকারি নির্ধারিত সীমার মধ্যেই থাকে, যদিও কোথাও কোথাও সর্বোচ্চ ১০০ টাকা বেশি নেওয়া হতে পারে।

মন্ত্রী আরও জানান, ঈদ উপলক্ষে কিছু পরিবহন যাত্রী আকর্ষণে ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত ছাড়ও দিচ্ছে। এর আগে তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, এক টাকা বেশি নিলেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জ্বালানির কোনো সংকট থাকবে না।

কিন্তু বাস্তবে সায়েদাবাদ, আরামবাগ, কল্যাণপুর ও গুলিস্তানসহ বিভিন্ন টার্মিনালে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলা একাধিক যাত্রী জানিয়েছেন, তারা অতিরিক্ত ভাড়া দিতে বাধ্য হয়েছেন।

যাত্রীদের অভিযোগ, বাস কাউন্টারের কর্মীরা প্রথমে ঈদের বাড়তি চাপের কথা বলে এবং পরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে।

অনেকে বলেন, কিছু পরিবহন মালিক আগেই নিজেদের লোকদের দিয়ে টিকিট বুক করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন। পরে সেই টিকিট সাধারণ যাত্রীদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করা হয়।

শ্রাবন্তী আক্তার নামের এক যাত্রী জানান, ঢাকা-সাতক্ষীরা রুটে আগে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের ভাড়া ছিল এক হাজার টাকা, এখন তা বেড়ে ১ হাজার ৬০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। অন্য পরিবহনগুলো একই রুটে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নিচ্ছে।

তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে কিছু নেওয়া হচ্ছে না।

ঢাকা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, নন-এসি বাসের ক্ষেত্রে বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের জন্য নির্দিষ্ট ভাড়া কাঠামো না থাকায় ভিন্নতা দেখা যায়।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, জ্বালানি সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে এবং বাসের সংখ্যা বাড়লে যাত্রী ভোগান্তিও কমে আসবে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970