আজ পহেলা বৈশাখ, আনন্দে মেতেছে সারা দেশ
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২২ এএম
‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’—এই প্রত্যয়ে উদিত নতুন সূর্যের আলোয় শুরু হলো বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। পুরোনো বছরের ব্যর্থতা ও ক্লান্তিকে বিদায় জানিয়ে নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার প্রত্যাশায় আজ আনন্দে মেতে উঠেছে সারা দেশের মানুষ।
ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে বাঙালির এই সর্বজনীন উৎসব এখন জাতীয় মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে। দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা বাঙালিরা একই আনন্দে শামিল হয়ে উদযাপন করছে নববর্ষ। পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের বাসিন্দারাও নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের পর এক স্বস্তিদায়ক পরিবেশে এবারের নববর্ষ উদযাপন করছে দেশবাসী। বিশ্বজুড়ে নানা অস্থিরতার মধ্যেও নতুন বছর বয়ে এনেছে শান্তি ও আশার বার্তা।
নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পৃথক বাণীতে তারা একটি উন্নত, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রপতি নববর্ষকে অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে সকলকে দায়িত্বশীল ও সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানান। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নববর্ষকে জাতিসত্তার পরিচয় হিসেবে তুলে ধরে সংকীর্ণতা পরিহার করে মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান।
ঐতিহাসিকভাবে মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে প্রবর্তিত ফসলি সন থেকেই বাংলা সনের যাত্রা শুরু হয়। সময়ের পরিক্রমায় এটি বাঙালির অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। গ্রামীণ মেলা, হালখাতা ও চৈত্রসংক্রান্তির গণ্ডি পেরিয়ে নববর্ষ এখন শহর ও গ্রামের সবার প্রাণের উৎসব।
রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ বর্ণিল সাজে সজ্জিত। ভোরে রমনার বটমূলে সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে বৈশাখী মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। লাল-সাদা পোশাকে সেজে মানুষের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে নগরীর পথঘাট। পাশাপাশি বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও শেরেবাংলা নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় চলছে বৈশাখী মেলা ও ক্ষুদ্র শিল্প প্রদর্শনী। শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও চলছে উৎসবের আমেজ।