সচিবালয়ে আবারও চুরি, এবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ল্যাপটপ চুরি
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৬:২১ পিএম
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে একান্ত সচিবের ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে সচিবালয়ের ১৬ তলায় অবস্থিত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে মো. ইমামুল হাফিজ নাদিমের ব্যক্তিগত ব্যবহৃত এইচপি ব্র্যান্ডের ল্যাপটপটি নিখোঁজ হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান শাকিলের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একই তলায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) মাহাদী আমিন এবং প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের দপ্তরও রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্রের দাবি, দুপুরের দিকে ইমামুল হাফিজ নাদিম প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান শাকিলের কক্ষে প্রবেশ করেন। প্রায় পাঁচ মিনিট পর নিজ কক্ষে ফিরে এসে তিনি টেবিলে রাখা ল্যাপটপটি খুঁজে পাননি।
সূত্রগুলো আরও জানায়, ঘটনার সময় ভবনে বিদ্যুৎ ছিল না এবং কক্ষের বাইরে লোকসমাগমও ছিল। পরে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়েও ল্যাপটপটির কোনো সন্ধান মেলেনি।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে খয়েরি রঙের শার্ট ও ধূসর প্যান্ট পরিহিত আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে কালো ব্যাগ হাতে দপ্তর থেকে বের হতে দেখেছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যাগেই চুরি হওয়া ল্যাপটপটি বহন করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, ল্যাপটপটিতে মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথিও থাকতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ভবনের ১৬ তলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল। গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর এলাকায় সহজেই প্রবেশ করা সম্ভব হওয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
তাদের ভাষ্য, লিফট থেকে নেমেই কোনো কার্যকর নিরাপত্তা বলয় ছাড়াই করিডোরে প্রবেশ করা যায়, ফলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সবসময় ঝুঁকির মধ্যে থাকে।
এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের নিরাপত্তা ইনচার্জ পিসি আশরাফুল আলম বলেন, ঘটনার পরপরই উপস্থিত ব্যক্তিদের ব্যাগ তল্লাশি করা হয়েছে। তবে পুরো ভবনের নিরাপত্তায় মাত্র ২২ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। সীমিত জনবল নিয়েও সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর একান্ত সচিব মো. ইমামুল হাফিজ নাদিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।