সিলেট মাজারে মদ-গাঁজা বন্ধ ঘোষণার একদিন পরই ডিসি সরওয়ারকে বদলি
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
সিলেটের হযরত শাহপরাণ (রহ.) মাজারে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং মদ-গাঁজার আসর বন্ধে নির্দেশনা দেওয়ার একদিনের মাথায় বদলি করা হয়েছে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সরওয়ার আলমকে।
রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে উপসচিব হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।
এর আগে শুক্রবার (২০ জুন) জুমার নামাজের আগে হযরত শাহপরাণ (রহ.) মাজার পরিদর্শনে গিয়ে মাজার মসজিদে বক্তব্য দেন মো. সরওয়ার আলম। সেখানে তিনি মাজার পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাজার এলাকায় মদ ও গাঁজাসহ সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেন।
বক্তব্যে তিনি বলেন, ওলি-আউলিয়াদের স্মৃতিবিজড়িত এসব পবিত্র স্থানের উন্নয়নে পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন। মাজারকেন্দ্রিক একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা, নারীদের নামাজের ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মানুষ দান করতে আগ্রহী হয় তখনই, যখন তারা নিশ্চিত হয় যে তাদের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হতে হবে। এতে মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
মাজার কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, মাজারগুলো পবিত্র স্থান হওয়ায় এখানে কোনোভাবেই মদ-গাঁজার আসর বসতে দেওয়া যাবে না। এ ধরনের অভিযোগ প্রশাসনের কাছে প্রায়ই আসে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে এবং মাজার এলাকায় অপরাধের ঘটনায় কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, মাজারের দানের অর্থ সরকার গ্রহণ করবে না। তবে দান সংগ্রহের ক্ষেত্রে হাতে হাতে অর্থ নেওয়ার পরিবর্তে নির্দিষ্ট দানবাক্স ব্যবহার করতে হবে, যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) বিকেলে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে দান সংগ্রহে ব্যবহৃত তিনটি ডেগ সিলগালা করা হয় এবং নিরাপত্তা জোরদারে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়।
তবে প্রশাসনের এ পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মাজারের অনেক ভক্ত-অনুরাগী। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাতে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে বিক্ষোভও অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দান সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতে নতুন দানবাক্স স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ভক্তদের দেওয়া সব দান প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে থাকা দানবাক্সে জমা হবে এবং হাতে হাতে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ থাকবে না।