নিরাপদে দেশত্যাগের সমঝোতায় পদত্যাগ করেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পু!

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সঙ্গে নিরাপদ প্রস্থান ও দেশত্যাগ নিয়ে একটি সমঝোতার ভিত্তিতে সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন এমন দাবি করা হয়েছে একটি বিশেষ প্রতিবেদনে। সংবাদমাধ্যম টাইমস অব বাংলাদেশ প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, পদত্যাগের আগে নিরাপদে দেশত্যাগ ও নির্বিঘ্নে প্রস্থানের নিশ্চয়তা পান তিনি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন সংবিধান অনুযায়ী যে আইনি সুরক্ষা প্রযোজ্য, সে বিষয়ে বিএনপি আপত্তি না তুললেও রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, কেলেঙ্কারি বা সম্ভাব্য মামলার দায়ভার দলটি নেবে না বলে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে।

বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে অবস্থানকালে অবাধে চলাফেরার নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই পদত্যাগে সম্মত হন সাহাবুদ্দিন। একই সঙ্গে দলটির পক্ষ থেকে তাকে দ্রুত বিদেশে চলে যাওয়াই নিরাপদ ও সুবিধাজনক হবে বলেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

পদত্যাগের পর সাবেক রাষ্ট্রপতি গণমাধ্যমকে বলেন, শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ হলেই আগামী ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদেশে যাবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং এ বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ ও এ-সংক্রান্ত সমঝোতার বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাও আগে থেকেই অবগত ছিলেন। দলটির এক নেতার দাবি, রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের দাবি থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে সম্মানজনকভাবে বিদায় দেওয়ার পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে কৌশলগত কারণে বিএনপি ও সরকারের প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণ হিসেবে তার শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টিকেই সামনে আনছেন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণেই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন।

আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানান, রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো মামলা হলে তা আইন অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হবে। তবে সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে নির্দিষ্ট আইনি সুরক্ষা দিয়ে থাকে।

বিশেষ প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে ভূমিকা এবং এস আলম গ্রুপের সঙ্গে কথিত সম্পর্কের মতো রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগের বিভিন্ন বিষয়ের দায় বিএনপি নেবে না।

এছাড়া বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের একটি তদন্ত প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ২০১৭ সালে সাহাবুদ্দিন জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক এবং পরে ভাইস চেয়ারম্যান হন। অভিযোগ অনুযায়ী, বিষয়টি এস আলম গ্রুপের ব্যাংক দখল প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এ-সংক্রান্ত মামলা বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন সাহাবুদ্দিন। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তার পদত্যাগ এবং স্পিকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি জানায়। আগামী সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদের অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে পদত্যাগের পর নিয়ম অনুযায়ী ভিভিআইপি সুবিধা বহাল থাকলেও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টিসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদের কারণে তার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গুলশান-১-এর গ্রিন ভিলায় তার জন্য একটি ফ্ল্যাট প্রস্তুত করা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই তিনি সেখানে উঠতে পারেন বলে জানিয়েছেন তার একান্ত সহকারী সচিব সাগর হোসেন।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970