সাবেক রাষ্ট্রপতির অতীত কার্যক্রম যাচাই করে আইনি ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষ হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রোববার (২৬ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত নবীন আইনজীবীদের বরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, জনগণের বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার এবং ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সরকার চায় না কাউকে অন্যায়ভাবে হয়রানির শিকার হতে হোক। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে সরকার যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি বিগত সরকারের সময় দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। তার দাবি, গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে বৈধ নথিপত্রের আড়ালে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে, যা বর্তমান সময়ের দুই থেকে তিনটি জাতীয় বাজেটের সমপরিমাণ। তিনি বলেন, এ তথ্য তার ব্যক্তিগত নয়; আন্তর্জাতিক সাময়িকী টাইম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে।

দুর্নীতির উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, খুলনায় প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ২৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া পিরোজপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্প কেবল কাগজে-কলমে বাস্তবায়নের দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। বাস্তবে সেখানে কোনো সড়ক নির্মাণ হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এসব অনিয়ম দেশের অর্থনীতি, উন্নয়ন এবং জনগণের রাষ্ট্রের প্রতি আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

জুলাই অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বিষয়ে তিনি জানান, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের মাধ্যমে এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে বর্তমানে মিথ্যা মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আইন পেশায় সফল হওয়ার কোনো সংক্ষিপ্ত পথ নেই। নিয়মিত অধ্যয়ন, সততা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের সেবার মনোভাব নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি নিজের দলের কেউ দুর্নীতিতে জড়িত থাকলেও তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, জেলা ও দায়রা জজ কাজী আবদুল হান্নান, মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ.জি.এম. মনিরুল হাসান সরকার, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহাগ তালুকদার, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অ্যাডহক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরীসহ বিচার বিভাগ ও আইন অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970