৫৩ আসনে ১০ হাজারের কম ব্যবধানে হেরেছেন জামায়াত জোটের প্রার্থীরা
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের মাধ্যমে ২২৪ আসনে প্রার্থী দেয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এর মধ্যে ৬৮ আসনে দলটির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। তবে বিভিন্ন আসনে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজয়ের ঘটনায় ফলাফল নিয়ে দলটির ভেতরে চলছে পর্যালোচনা।
দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিভিন্ন আসনে ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে কারচুপি হয়েছে। এসব কারচুপি না হলে আসন সংখ্যা আরও বাড়ত বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ড. যোবায়ের আহমদ বলেন, ৫৩ আসনে ১০ হাজারেরও কম ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন জামায়াত জোটের প্রার্থীরা। এসব আসনে জয় পেলে দলটির আসন সংখ্যা প্রায় ১২০টিতে পৌঁছাতে পারত। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা এ বিষয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন-এ অভিযোগ দাখিল করবেন বলেও জানান তিনি।
এক নির্বাচনি কর্মী অভিযোগ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী দল জাল ভোট দিয়েছে। তার ভাষ্য, একটি আসনে ১০০ থেকে ১৫০টি কেন্দ্র থাকলে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে ২০ থেকে ৩০টি জাল ভোট পড়লে কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধান তৈরি হতে পারে।
খুলনা-৫ আসনে দুই হাজার ৬০৮ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি পেয়েছেন এক লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট, আর বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী আলী আসগর পেয়েছেন এক লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট।
ঢাকা-১০, ঢাকা-১৭ ও ঢাকা-৭ আসনেও কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থীরা। পিরোজপুর-2, ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৩ ও ৫, লালমনিরহাট-১ ও ২, গাইবান্ধা-৪, বগুড়া-৩, সিরাজগঞ্জ-১, যশোর-৩ এবং খুলনা-৩ আসনেও ১০ হাজারের কম ব্যবধানে হারের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
এছাড়া বরগুনা, ঝালকাঠি, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, ঢাকা-৮ ও ১৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, চাঁদপুর-৪, চট্টগ্রাম-১৪ এবং কক্সবাজার-৪ আসনেও জোটভুক্ত প্রার্থীরা অল্প ভোটে পরাজিত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোট সূত্র জানায়, কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনা করে যেসব ত্রুটি ধরা পড়ছে, সেগুলো নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করে ফল স্থগিত ও পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন।