রক্ষক যদি ভক্ষক হয়, বাস্তবে কোনো সুফল দেখা যায় না: চরমোনাই পীর
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বশীলরা যদি জনগণের স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে নিজেদের স্বার্থে কাজ করেন, তাহলে নীতিনির্ধারণী আলোচনা বাস্তবে কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
সোমবার (৮ জুন) সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের আগামী অর্থবছরের বাজেট ও জনগণের প্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর হিসেবে পরিচিত রেজাউল করিম বলেন, জনগণের কল্যাণে প্রণীত বাজেটের সুবিধা যদি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় না পৌঁছায়, তাহলে সেই বাজেটের প্রকৃত উদ্দেশ্য সফল হয় না। তিনি দাবি করেন, দেশের ইতিহাসে বর্তমান সরকার একটি ব্যতিক্রমী সরকার, যা একটি অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। সেই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্য দূর করা এবং মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের কল্যাণে যে প্রত্যাশা ও আদর্শ নিয়ে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল, তার পূর্ণ বাস্তবায়ন এখনো হয়নি। এ অবস্থার পরিবর্তনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রেজাউল করিম আরও বলেন, শরিয়াহভিত্তিক নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা না হলে কেবল আলোচনা করে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা আমানতের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করায় দুর্নীতি বেড়েছে এবং জনগণ প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ধারাবাহিকভাবে বৈদেশিক ঋণের বোঝা বাড়তে থাকলে তা দেশের জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বাজেট ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে জনগণের চাওয়া-পাওয়া বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
গাজী আতাউর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, চর্চার সম্পাদক সোহরাব হাসান, বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ, ইসলামী আন্দোলনের আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা গোলাম মসীহ, জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মুসাদ্দিক বিল্লাহ আল মাদানী এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন।