দেরিতে হলেও জাতির ঘাড় থেকে স্বৈরাচারের কালো ছায়া সরে গেল: জামায়াত আমির
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগকে জাতির জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তার ভাষ্য, দেরিতে হলেও জাতির ঘাড় থেকে স্বৈরাচারের একটি কালো ছায়া সরে গেছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি কী কারণে পদত্যাগ করেছেন, তা নিয়ে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। কারণ, তাদের দৃষ্টিতে তিনি আগেই রাষ্ট্রপতির পদে থাকার নৈতিক যোগ্যতা হারিয়েছিলেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দায়িত্ব পালনকালে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি নিরপেক্ষ, ন্যায়নিষ্ঠ ও পক্ষপাতহীনভাবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং রাষ্ট্রপতির মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখবেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, দায়িত্ব পালনে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে তার দল।
তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংসদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর স্বাভাবিক সাংবিধানিক প্রক্রিয়াতেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা করেন। এ বিষয়ে সময় এলে তাদের রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করা হবে বলে জানান তিনি।
সাংবিধানিক সংকটের আশঙ্কা নাকচ করে জামায়াত আমির বলেন, স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ায় ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধান অনুযায়ী এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় কোনো সাংবিধানিক জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার কথা নয়। তবে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিবর্তিত বাংলাদেশ গঠনে সংসদকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে যদি কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তিনি-সহ কোনো ব্যক্তিই আইনের ঊর্ধ্বে নন। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একাধিক প্রার্থী হলে সংসদে ভোটাভুটির মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাওয়া ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। তিনি এমন একজন রাষ্ট্রপতি চান, যিনি রাষ্ট্রের মর্যাদা রক্ষা করবেন এবং কোনো ধরনের তোষামোদের রাজনীতিতে জড়াবেন না।
রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্যগত বিষয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি জানান, পদত্যাগী রাষ্ট্রপতির বক্তব্য থেকে জানা গেছে তিনি গুরুতর অসুস্থ এবং বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা ও বিশ্রাম নিতে চান। তবে তার মতে, দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখে সবারই দেশে চিকিৎসা নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনা যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেননি। বিশেষ করে গণহত্যার অভিযোগের সময় তিনি কোনো প্রতিবাদ জানাননি বা সহিংসতা বন্ধের আহ্বানও দেননি। এ কারণে অভিভাবক হিসেবে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।