পাবনায় নিজামীপুত্রের ইমামতি নিয়ে মসজিদে বিএনপি-জামায়াত হাতাহাতি
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১১:২১ পিএম
পাবনার সাঁথিয়া পৌর এলাকার একটি মসজিদে জুমার নামাজের ইমামতি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা, বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুমার খুতবার আগে আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মসজিদের নির্ধারিত ইমামের ইমামতিতে জুমার নামাজ আদায় করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির প্রয়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে এবং পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন মসজিদটিতে জুমার নামাজে ইমামতি করতে গেলে উপস্থিত কয়েকজন বিএনপি-সমর্থক আপত্তি জানান। এ নিয়ে মসজিদের ভেতরে জামায়াত, ইসলামী ছাত্রশিবির, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়। আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকায় দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এর আগের শুক্রবারও একই মসজিদে ইমামতি করতে গেলে আপত্তির মুখে তা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন দাবি করেন, মসজিদ কমিটির আমন্ত্রণেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তার অভিযোগ, বিএনপির নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে খুতবার সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর তার এক সমর্থকের দোকানে হামলা ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে মুসল্লি ও তাদের সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় এনসিপির সাঁথিয়া পৌর সভাপতি আবু দাউদ ফকির, উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মেহেদী হাসান, সাবেক শিবির নেতা শিখন মোল্লা এবং পৌর যুবজামায়াতের সম্পাদক সাদ্দাম ফকিরসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে তারা দাবি করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম। তার দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে সংসদ সদস্য নিজেই ইমামতি করতে চেয়েছিলেন। এতে স্থানীয় মুসল্লিরা আপত্তি জানালে জামায়াত, ছাত্রশিবির ও এনসিপির সমর্থকরাই উসকানিমূলক আচরণ শুরু করেন, যার ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক আনিসুর রহমান বলেন, মসজিদ কমিটির অনুমতি ও আমন্ত্রণের ভিত্তিতেই ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনকে ইমামতি করার জন্য আনা হয়েছিল। কিন্তু খুতবা শুরুর সময় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির সাঁথিয়া উপজেলা সদস্যসচিব ফারুক হোসেন অভিযোগ করেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা মুসল্লিদের ওপর হামলা চালিয়েছেন এবং পুরো ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
এ বিষয়ে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, ইমামতি নিয়ে উত্তেজনার আশঙ্কায় পুলিশ আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিল। নামাজের আগে কথা-কাটাকাটি ও হালকা ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটলেও পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তার ভাষ্য, বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষ বা মারধরের ঘটনা ঘটেনি এবং বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।