আগামীর বাংলাদেশ হবে কোরআনের বাংলাদেশ: জামায়াত আমির
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:০৫ পিএম
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমরা কোনো ৮ দলের বিজয় চাই না, চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। এ বিজয় কোরআনের আলোকে অর্জিত হবে, আর চট্টগ্রাম থেকেই ইসলামের বিজয়ের বাঁশি বাজবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে কোরআনের বাংলাদেশ।”
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক লালদীঘি মাঠে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন সমমনা আট দলের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সকাল থেকেই লালদীঘি মাঠে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। জুমার নামাজের পর শুরু হওয়া মূল সমাবেশে স্লোগান, ব্যানার ও পতাকা নিয়ে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা যোগ দেন। একসময় মাঠ ও আশপাশের সড়ক পরিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
সমাবেশে অংশ নেওয়া দলগুলো হলো- জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, খেলাফত মজলিস, জাগপা, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।
সমাবেশ পরিচালনা করেন নগর জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যক্ষ নুরুল আমিন। তিনি দাবি করেন- জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট জরুরি।
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, “যারা উন্নয়ন করেছে বলে দাবি করে, তারাই দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করেছে। শাপলা চত্বরে বহু আলেমকে হত্যা করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদ রক্ত হাতে ক্ষমতায় এসেছে, রক্ত হাতে গেছে। দেশের সবকিছু ধ্বংস করা হলেও ফ্যাসিবাদকে আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না।”
সমাবেশে খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “বাংলাদেশ ইসলামের দেশ। ডিজিটাল বা সবুজ বাংলাদেশ দেখে ক্লান্ত—এবার প্রয়োজন ইসলামের রাষ্ট্র। উন্নয়নের নামে প্রতারণা হয়েছে, কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। ইসলামী দলগুলোর ঐক্যই জনগণের বিজয় নিশ্চিত করবে।”
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, “ব্রিটিশ শাসন শেষে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ১৯৭১-এর স্বাধীনতার পরও বৈষম্য দূর হয়নি। ২০২৪ পর্যন্ত যারা শাসক ছিল, তারা বৈষম্যমুক্ত সমাজ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ইসলাম প্রতিষ্ঠা হলেই বৈষম্য শেষ হবে।”
নেজামে ইসলাম পার্টির আমির অধ্যক্ষ মাওলানা সরওয়ার কামাল আজিজী বলেন, “দেশে ইসলামের জোয়ার উঠেছে। চট্টগ্রাম সেই জোয়ারের প্রথম ঘোষণা দিচ্ছে।”
জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান বলেন, “ভারতনির্ভর রাজনীতি দেশের জন্য হুমকি। তরুণ প্রজন্ম পরিবর্তনের রাজনীতি চায়।”
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, “ইসলামের পথে ভোটই দেশকে দুর্নীতি-সন্ত্রাস থেকে মুক্ত করতে পারে।”
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী বলেন, “অবিচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ইসলামই মানুষের মুক্তির পথ দেখায়।”
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “অতীতে ব্যালট বাক্স রাতারাতি ভর্তি হয়েছে। জুলাই চেতনার আলোকে নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে।”
সমাবেশ শেষে দেশের শান্তি ও কল্যাণ কামনায় দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্যও প্রার্থনা করেন।