হজের বিমান ভাড়া ১ লাখ টাকায় নামানো সম্ভব: হাব সভাপতি
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
এয়ারলাইন্সগুলোর অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করা গেলে হজের বিমান ভাড়া ১ লাখ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার।
শনিবার রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে ২০২৬ সালের হজ কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
সৈয়দ গোলাম সরওয়ার বলেন, হজ ডেডিকেটেড ফ্লাইটের নামে বিমান সংস্থাগুলো হজযাত্রীদের কাছ থেকে প্রায় ৫৪ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। একচেটিয়া এই ব্যবসার কারণে সাধারণ হজযাত্রীদের বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ বহন করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে আগামী বছরের হজ ফ্লাইটের টিকিটের দাম ১ লাখ টাকার মধ্যে রাখা সম্ভব। এতে হজের সামগ্রিক ব্যয়ও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।
এক প্রশ্নের জবাবে হাব সভাপতি বলেন, বিমান ভাড়া কম হলে হজযাত্রীর কোটাও পূরণ করা সম্ভব হতো। টিকিটের দাম ১ লাখ টাকার মধ্যে আনতে পারলে ১ লাখ ২৯ হাজার হাজি হজ পালনের সুযোগ পেতেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, টিকিটের মূল্য ও মোয়াল্লেম খরচ বেড়ে যাওয়ায় হজযাত্রীর সংখ্যা কমেছে। এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে বিমান ভাড়া আরও কমানোর আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, চলতি বছরের হজ কার্যক্রমে অল্প সময়ের মধ্যে মোয়াল্লেম চুক্তি, বাড়ি ভাড়া, পরিবহন ব্যবস্থা ও তাঁবু নির্বাচনসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে হয়েছে। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ধর্ম মন্ত্রণালয়, হজ অফিস ও হাবের সমন্বিত উদ্যোগে এবারের হজ ব্যবস্থাপনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিমানভাড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রকৃত অর্থে কোনো ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইট পরিচালিত হয় না। অথচ শিডিউল ফ্লাইটকেই ডেডিকেটেড ঘোষণা করে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। তার মতে, হজ ফ্লাইটের সর্বোচ্চ ভাড়া ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে হাব নেতারা সৌদি সরকারের নতুন নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বিদ্যমান হজ ও ওমরাহ আইন দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
তারা জানান, ভিসা ও ফ্লাইটসংক্রান্ত জটিলতা অনেকটাই কেটে গেছে। ফলে কোটা অনুযায়ী সব হজযাত্রী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরাপদে সৌদি আরব পৌঁছাতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া এবারের হজে বড় ধরনের ফ্লাইট শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কাও নেই বলে জানান তারা।