মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১০:৩০ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে টানা চতুর্থ দিনের মতো বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। ইরানের সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৩ সেন্ট বেড়ে ৮৫ দশমিক ২৮ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে পশ্চিম টেক্সাস অপরিশোধিত তেলের দাম ৪২ সেন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগের দিনও দুই ধরনের তেলের দাম বাড়ায় বর্তমানে তা গত এক মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান আঞ্চলিক জ্বালানি রপ্তানি আরও সীমিত করার হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে তেল কেনার প্রবণতা বেড়েছে। যদিও বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা তুলনামূলক কম বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ থেকে ৮৭ ডলারের মধ্যে পৌঁছাতে পারে বলে মত তাদের।

বিশ্লেষকদের মতে, চলতি সপ্তাহে তেলের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ পথে যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, ইয়েমেনের হুথি মিত্রদের মাধ্যমে বাব আল-মানদেব প্রণালীতেও চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জ্বালানি পরিবহন পথই ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

অন্যদিকে, একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানি স্বাভাবিক হতে বিলম্ব হলে চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে উত্তেজনা প্রশমিত হওয়া এবং উৎপাদন বাড়লে বছরের শেষ দিকে তেলের দাম আবারও ৬০ ডলারের ঘরে নেমে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য সংস্থার সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১০ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ১৭ লাখ ব্যারেল কমেছে। যদিও বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল, মজুত কমবে প্রায় ২৬ লাখ ব্যারেল।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970