পকেটে নগদ টাকা ছিল না, কিউআর স্ক্যানেই চা, মোগলাই ও সবজি কিনলেন গভর্নর
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম
পকেটে নগদ টাকা ছিল না, ছিল না খুচরা টাকার ঝামেলাও। হাতে থাকা স্মার্টফোন দিয়েই ‘বাংলা কিউআর’ কোড স্ক্যান করে ফুটপাতের চায়ের দোকান, রেস্টুরেন্ট, সুপার শপ ও কাঁচাবাজারে কেনাকাটার বিল পরিশোধ করলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
দেশে ক্যাশলেস বা নগদহীন লেনদেন জনপ্রিয় করতে এবং ‘বাংলা কিউআর’-এর ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে বুধবার (২ জুলাই) রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে বের হয়ে সরাসরি বিভিন্ন স্থানে ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে কেনাকাটা করেন তিনি।
দিনের শুরুতে ফুটপাতের ক্ষুদ্র বিক্রেতাদের কাছ থেকে কেনাকাটা করেন গভর্নর। পরে রাস্তার পাশের একটি চায়ের দোকানে চা পান শেষে সেখানে থাকা বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করে বিল পরিশোধ করেন। এরপর একটি সুপার শপে গিয়ে একই পদ্ধতিতে একটি পিনাট বার কেনেন।
দুপুরে একটি রেস্টুরেন্টে মোগলাইয়ের বিলও বাংলা কিউআরের মাধ্যমে পরিশোধ করেন তিনি। সবশেষে একটি কাঁচাবাজারে গিয়ে এক সবজি বিক্রেতার কিউআর কোড স্ক্যান করে ডিজিটাল পেমেন্টে সবজি কেনেন।
ফুটপাতের দোকান, চায়ের স্টল, রেস্টুরেন্ট, সুপার শপ এবং কাঁচাবাজার—সব ক্ষেত্রেই একই পদ্ধতিতে লেনদেনের মাধ্যমে গভর্নর বার্তা দিয়েছেন, ডিজিটাল পেমেন্ট এখন শুধু বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা শহুরে অভিজাতদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনেও এটি সহজে ব্যবহার করা সম্ভব।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ১ জুলাই থেকে ‘বাংলা কিউআর’-এর ব্যবহার সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশে একটি সমন্বিত ও আন্তঃপরিচালনাযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে নগদ অর্থ বহন, খুচরা টাকার ঝামেলা এবং ভিন্ন ভিন্ন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের সীমাবদ্ধতা দূর করে একীভূত কিউআরভিত্তিক লেনদেন ব্যবস্থার আওতায় সব ধরনের ব্যবসায়ী ও গ্রাহককে যুক্ত করতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের এই প্রতীকী উদ্যোগ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হকার এবং সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ডিজিটাল লেনদেনের প্রতি আস্থা ও আগ্রহ বাড়াবে। এতে ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নেও ইতিবাচক গতি আসবে।
এদিকে, ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার করে লেনদেনের ক্ষেত্রে মার্চেন্ট বা বিক্রেতারা ভ্যাটসহ সর্বোচ্চ ১ শতাংশ পর্যন্ত ফি আদায় করতে পারবেন বলে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।