সমর্থকদের তোপ ও সরকারি তদন্ত থেকে বাঁচতে যুক্তরাষ্ট্রে ‘পালালেন’ দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ
খেলাধুলা ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৫ পিএম
বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর সমর্থকদের তীব্র ক্ষোভ ও সরকারি তদন্তের মুখে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন দক্ষিণ কোরিয়া জাতীয় ফুটবল দলের সদ্য সাবেক কোচ হং মিয়ুং-বো। দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাহীনতা ও বাড়তে থাকা চাপের কারণেই তিনি দেশ ছেড়েছেন।
ফিফা বিশ্বকাপে বড় প্রত্যাশা নিয়ে অংশ নিয়েও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় দক্ষিণ কোরিয়া। দেশে ফেরার পর থেকেই ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে পুরো দল, যার বড় অংশের লক্ষ্যবস্তু হন হং মিয়ুং-বো।
দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে জড়ো হওয়া বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা ‘হং আউট’ স্লোগান দেন। অনেকের হাতে ছিল ‘হংয়ের বেতন ফেরত নেওয়া হোক’ লেখা প্ল্যাকার্ড। এমনকি গাড়িতে ওঠার আগ পর্যন্ত তাকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তিও করেন কয়েকজন সমর্থক।
বিশ্বকাপে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে এরই মধ্যে কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন হং মিয়ুং-বো। তবে পদত্যাগের পরও সমর্থকদের ক্ষোভ না কমায় দেশে ফেরার মাত্র দুই দিনের মাথায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।
স্টার নিউজ কোরিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালে দক্ষিণ কোরিয়া দল মেক্সিকোতে অবস্থান করেছিল। সেখান থেকে দেশে ফিরে কয়েক দিন বিশ্রামে থাকার কথা থাকলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান হং। সেখানে আগে থেকেই তার পরিবারের সদস্যরা অবস্থান করছেন।
এদিকে বিশ্বকাপে দলের ব্যর্থতার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ুং। তার অভিযোগ, যোগ্যতার চেয়ে পক্ষপাতিত্ব ও ব্যক্তিগত সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়ার সংস্কৃতির কারণেই এমন ফল হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দেশটির জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে, রাজনৈতিক চাপ ও সম্ভাব্য সরকারি তদন্তের শুনানি এড়াতেই হং মিয়ুং-বো যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। যদিও দেশ ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি অনেক কিছু বলতে চাই। তবে সেগুলো বলার জন্য এখনো উপযুক্ত সময় আসেনি।’ একই সঙ্গে জাতীয় দলে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের অভিযোগও নাকচ করেন তিনি।
তবে দেশটির কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য, হং মিয়ুং-বো পরিবারের কাছে লস অ্যাঞ্জেলেসে গেলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে তার এই সফরকে অনেকেই ‘দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া’ হিসেবে দেখছেন। ফলে ঘটনাটি দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলের জন্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।