মেসির ঘটনায় কিছুই না, বালোগানকে লাল কার্ড: রেফারিং নিয়ে নতুন বিতর্ক
খেলাধুলা ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম
বিশ্বকাপে রেফারিংয়ের ধারাবাহিকতা ও ভিএআরের প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির একটি ট্যাকলে কোনো কার্ড না দেখানো হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানকে একই ধরনের ঘটনায় সরাসরি লাল কার্ড দেখানোয় প্রশ্ন তুলছেন ফুটবল বিশ্লেষক, সাবেক খেলোয়াড় ও সমর্থকদের একাংশ।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
সান ফ্রান্সিসকোর লেভিস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের ৬৪তম মিনিটে বসনিয়ার ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচকে ট্যাকল করতে গিয়ে তার পায়ে আঘাত করেন বালোগান। মাঠের ব্রাজিলিয়ান রেফারি রাফায়েল ক্লাউস প্রথমে কোনো ফাউলের বাঁশি না বাজালেও পরে ভিএআরের পরামর্শে ভিডিও দেখে সরাসরি লাল কার্ড প্রদর্শন করেন।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার মান্দির পায়ের পেছনে বুটের তলা দিয়ে আঘাত করেন লিওনেল মেসি। সে সময় আলজেরিয়ার খেলোয়াড়রা লাল কার্ডের দাবি জানালেও পোল্যান্ডের রেফারি সাইমন মার্চিনিয়াক শুধু ফাউলের বাঁশি বাজান, মেসিকে কোনো কার্ড দেখাননি।
এ দুটি ঘটনার তুলনা টেনে সমালোচনা করেছেন বিবিসির ধারাভাষ্যকার ও ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার রিও ফার্দিনান্দ। তার ভাষ্য, ভিএআরের সবচেয়ে বড় প্রশ্নই হলো একই ধরনের ঘটনায় নিয়মের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা। মেসির ট্যাকল অনেকের চোখে সরাসরি লাল কার্ডের মতো মনে হলেও সেটি যথাযথভাবে পর্যালোচনা হয়নি। অথচ বালোগানের ঘটনায় ভিএআর হস্তক্ষেপ করে রেফারি ভিডিও দেখে সরাসরি লাল কার্ড দিয়েছেন। এই ধরনের অসঙ্গতিই খেলোয়াড়, কোচ ও সমর্থকদের হতাশ করছে।
ইংল্যান্ড নারী দলের সাবেক স্ট্রাইকার সু স্মিথও লাল কার্ডের সিদ্ধান্তকে কঠোর বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, রিপ্লেতে স্থিরচিত্র দেখে ঘটনাটি গুরুতর মনে হলেও স্বাভাবিক গতিতে দেখলে এটি ইচ্ছাকৃত বলে মনে হয় না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বালোগানের পা ভুল জায়গায় পড়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্বকাপের ধারাভাষ্যকার ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফরোয়ার্ড ক্লিন্ট ডেম্পসি বলেন, ম্যাচ নিয়ে আলোচনা না করে এখন রেফারিং নিয়েই বেশি কথা বলতে হচ্ছে। তার দাবি, বালোগানের অপরাধ সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ার মতো ছিল না। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
একই সুরে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনো। তিনি বলেন, বালোগানের প্রতিপক্ষের পা মাড়িয়ে দেওয়ার কোনো ইচ্ছা ছিল না। তাই ঘটনাটি কখনোই সরাসরি লাল কার্ডের মতো অপরাধ হতে পারে না।
ফুটবল বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, প্রযুক্তির ব্যবহার খেলার নির্ভুলতা বাড়ানোর জন্য হলেও একই ধরনের ঘটনায় ভিন্ন শাস্তি দেওয়া হলে ভিএআরের স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। বিশেষ করে তারকা খেলোয়াড় ও অন্য খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে রেফারিংয়ের ভিন্ন মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
এদিকে, শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিষেধাজ্ঞার কারণে বালোগানকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। ফলে একটি লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত এখন বিশ্বকাপে ভিএআরের প্রয়োগ নিয়েই বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।