অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের মাথা ফাটালো যুবদলের নেতাকর্মীরা
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলায় সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিকের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন প্রেসক্লাব ভবনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত সামিউল মনির শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং দৈনিক সমকাল ও দৈনিক পত্রদূত–এর শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সাংবাদিকদের ভাষ্য, দুপুরে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনোয়ারুর ইসলাম আঙ্গুর, যুবদল নেতা মিজান ও মফু খাঁসহ কয়েকজন নেতাকর্মী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে একটি মিছিল বের করেন। ‘শ্যামনগরের সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে মিছিলটি প্রেসক্লাব চত্বরে এসে মানববন্ধনে রূপ নেয়। সেখানে সাংবাদিক সামিউল মনিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
একপর্যায়ে সদস্য সচিব আঙ্গুর, বাবলু, মিজান ও মতলেবসহ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মী অতর্কিতভাবে প্রেসক্লাব ভবনে প্রবেশ করেন। তারা সভাপতি সামিউল মনিরের ওপর হামলে পড়েন এবং উপস্থিত অন্যান্য সাংবাদিকদের সঙ্গেও অসদাচরণ করেন। হামলাকারীরা তাকে ভবন থেকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে এনে ইট, হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে তিনি গুরুতর জখম হন।
খবর পেয়ে শ্যামনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক শাকির হোসেন জানান, আহতের মাথার বাম পাশে শক্ত বস্তু দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাতুড়ি ও লোহার রডের আঘাত পাওয়া গেছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালেদুর রহমান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক সমকাল–এ ‘যুবলীগ-যুবদল-যুব বিভাগ মিলে খোলপেটুয়া-কপোতাক্ষ নদের বালু লুট’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই সাংবাদিক সামিউল মনির বিভিন্নভাবে হুমকির মুখে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের ধারণা, প্রকাশিত সংবাদের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।
এ ঘটনায় সাতক্ষীরার সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।