সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি আহত
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বসন্তপুর সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (৩ জুন) রাত ২টার দিকে বাঁশঝাড়িয়া সীমান্তসংলগ্ন কালিন্দী নদী পার হয়ে বাংলাদেশে ফেরার সময় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে সীমান্তে গুলিবর্ষণের এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
আহতরা হলেন কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের শীতলপুর গ্রামের মো. মহিউদ্দিন (৪০) ও মো. শাহিন (২৮)।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, প্রায় এক বছর আগে ওই দুই ব্যক্তি অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে কলকাতা হয়ে ভারতের তামিলনাড়ুতে যান। সেখানে তারা রাজমিস্ত্রির শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বুধবার গভীর রাতে কালিন্দী নদী সাঁতরে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে দুজনই গুলিবিদ্ধ হন।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ভোররাতের দিকে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সুজায়েত হোসেন জানান, ভোররাত পৌনে ৬টার দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুইজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ভারত থেকে অবৈধভাবে দেশে ফেরার সময় তারা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে এ ঘটনায় ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে বিজিবি। সাতক্ষীরার নীলডুমুরে অবস্থিত বিজিবি-১৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহরিয়ার রাজিব বলেন, সংশ্লিষ্ট সীমান্ত এলাকায় গত রাতে তিনি নিজে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের আওতাধীন কোনো সীমান্তে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের বক্তব্যে সীমান্তে গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠলেও বিজিবির অস্বীকৃতির কারণে ঘটনাটি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।