প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বোনাস থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ফেডারেশনের বিরুদ্ধে
খেলাধুলা ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া বোনাস থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কাবাডি ফেডারেশনের বিরুদ্ধে। খেলোয়াড়, রেফারি ও জাজদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের কথা বলে এই বোনাস থেকে একটি তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে ১৫ জন নারী খেলোয়াড়ের প্রাপ্ত বোনাস থেকে ১০ শতাংশ হারে প্রায় তিন লাখ টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
গত বছর মার্চে ইরানের তেহরানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে দীর্ঘ ২০ বছরের খরা কাটিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জেতে বাংলাদেশের নারী দল। এর আগে ২০০৫ সালে প্রথম আসরে ব্রোঞ্জ জয়ের পর আর কোনো পদক পায়নি তারা। এই সাফল্যে প্রশংসিত হন রুপালি আক্তার ও তার সতীর্থরা।
এছাড়া নারী কাবাডি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় আসর আয়োজন করতে ব্যর্থ হলে ভারত, প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্ট আয়োজন করে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন। সেখানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ অংশ নেয় এবং এই আসরেও ব্রোঞ্জ পদক জিতে দেশের সুনাম বয়ে আনেন নারী খেলোয়াড়রা।
এই দুই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ১৫ জন খেলোয়াড়কে গত মার্চে প্রধানমন্ত্রী এক লাখ টাকা করে বোনাস দেন। ফলে প্রত্যেকে মোট দুই লাখ টাকা করে পান। তবে অভিযোগ উঠেছে, এই বোনাস থেকে ১০ শতাংশ হারে অর্থ ফেডারেশনে জমা দিতে বলা হয়েছে।
সূত্র জানায়, খেলোয়াড়, রেফারি ও জাজদের জন্য আপদকালীন কল্যাণ তহবিল গঠনের নামে এই অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ অর্থ জমা দিলেও অনেকেই তা দিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক খেলোয়াড় বলেন, পরিবারের আর্থিক সংকট থাকা সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে ২০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।
এ বিষয়ে ফেডারেশনের কোষাধ্যক্ষ মাসুদুর রহমান চুন্নু বলেন, এটি আগেও চলমান ছিল, তাই এবারও নেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আবদুল হক জানান, তিনি এত বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়ার বিষয়ে অবগত নন।
অন্যদিকে সাবেক কোষাধ্যক্ষ এসএমএ মান্নান বলেন, আগে কখনো খেলোয়াড়দের কাছ থেকে এভাবে অর্থ নেওয়া হয়নি।
এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক তারকা ফুটবলার ও ক্রীড়া সংগঠক আবদুল গাফফার। তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের বোনাস থেকে চাঁদা তুলে তহবিল গঠন করা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। ক্রীড়াবিদদের সহায়তার জন্য অন্য উপায় রয়েছে, তাদের প্রাপ্য অর্থ থেকে কাটার কোনো যৌক্তিকতা নেই।