যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হস্তক্ষেপে আন্দোলন সহিংস হয়ে উঠেছে: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০২ পিএম
ইরানের সাধারণ জনগণের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হস্তক্ষেপের কারণে সহিংস রূপ নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) লেবানন সফরকালে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছে যে তারা বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ করেছে। তাদের এই হস্তক্ষেপের ফলেই জনগণের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ধীরে ধীরে সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের অবমূল্যায়ন, চরম মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন দেশটির সাধারণ মানুষ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন। সেই ধর্মঘট থেকেই দেশজুড়ে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়।
মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দিন দিন আন্দোলনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় কার্যত অচল হয়ে পড়ে পুরো দেশ।
বিক্ষোভ দমনে ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ দেশের প্রায় সব শহরে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সাময়িকভাবে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
মার্কিন সাময়িকী টাইমসের বরাতে জানা গেছে, টানা ১৩ দিনের বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
এদিকে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চারবার ইরানকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানি জনগণের আন্দোলনে দমন-পীড়ন চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য না করলেও দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ প্রকাশ্যে ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
ট্রাম্পের হুমকি প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের আশঙ্কা কম। কারণ অতীতেও এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, যা সফল হয়নি।