ইরানের ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার জব্দে স্পেশাল ফোর্স পাঠানোর চিন্তায় যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধের পরবর্তী ধাপে ইরানের মজুত উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করতে যৌথ সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমন অভিযান চালাতে হলে ইরানের মাটিতেই মার্কিন ও ইসরায়েলি সেনা মোতায়েন করতে হতে পারে। এতে চলমান উত্তেজনা আরও জটিল আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে—এটাই তার প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

বর্তমানে ইরানের কাছে প্রায় ৪৫০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি আগে জানিয়েছিলেন, এই ইউরেনিয়াম কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অস্ত্র তৈরির উপযোগী পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব। ফলে এই মজুতই এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে রাফায়েল গ্রোসি আরও বলেছেন, ইরানে সরাসরি পারমাণবিক বোমা তৈরির অবকাঠামোর কোনো স্পষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

তবুও ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ন্ত্রণে নিতে বদ্ধপরিকর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এজন্য ইরানের ভেতরে প্রবেশ করে শক্তভাবে সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে অভিযান চালানোর সম্ভাবনা বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

এ ধরনের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল কিংবা উভয় দেশের যৌথ বাহিনী অংশ নিতে পারে। তবে সামরিকভাবে ইরানকে দুর্বল করা সম্ভব কি না—তা নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন কংগ্রেসে এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরাপদ করতে হলে ‘কাউকে ইরানে গিয়ে তা নিয়ে আসতেই হবে।’ তবে এই অভিযান কারা পরিচালনা করবে সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি।

মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে দুটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। একটি হলো ইরান থেকে ইউরেনিয়াম পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়া, আর অন্যটি হলো সেখানে বিশেষজ্ঞদের এনে ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব কমিয়ে দেওয়া।

ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভাব্য অভিযানে বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থার বিজ্ঞানীরাও যুক্ত থাকতে পারেন।

শনিবার প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ান-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজন হলে স্থলবাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে ‘খুব শক্ত কারণ’ থাকলেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পুরো মজুত যদি ৯০ শতাংশে উন্নীত করা হয়, তাহলে তা দিয়ে প্রায় ১১টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব। এ কারণেই চলমান উত্তেজনায় এই মজুত এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970