‘ভারত মাতা কি জয়’ না বলায় মসজিদে ঢুকে ইমামকে হেনস্তা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৪১ পিএম
ভারতের অরুণাচল প্রদেশের নাহারলাগুন এলাকায় একটি মসজিদে ঢুকে ইমামকে জোর করে ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলানোর অভিযোগে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ২৭ নভেম্বর জামে মসজিদে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, অরুণাচল প্রাদেশিক আদিবাসী যুব সমিতির (এপিআইওয়াইও) সাধারণ সম্পাদক তাপর মেয়িং এবং সভাপতি তারো সোনম মসজিদের ভেতরে ইমামের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় আশপাশে থাকা বহু মানুষ স্লোগান দিতে শুরু করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ইমাম স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলবেন না; তবে ‘ইন্ডিয়া জিন্দাবাদ’ বলতে আপত্তি নেই। এতে ক্ষুব্ধ হন এপিআইওয়াইও নেতারা। চাপের মুখেও নিজের অবস্থানে অটল থাকেন ইমাম।
বিতর্ক চরমে উঠলে এপিআইওয়াইও সভাপতি তারো সোনম বলেন, “প্রত্যেক মুসলিম সন্ত্রাসী নয়, তবে প্রতিটি সন্ত্রাসী মুসলিম কেন?”—এই মন্তব্যে আরও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইমাম বলেন, “ইন্ডিয়া জিন্দাবাদই যথেষ্ট; ‘ভারত মাতা কি জয়’ আমরা বলব না।” তিনি যুক্তি দেন, “মা একজনই—যিনি জন্ম দেন। তাই ‘হিন্দুস্তান কি জয়’ বা ‘ইন্ডিয়া কি জয়’ বলা গেলেও ‘ভারত মাতা’ বলা যাবে না।”
গত এক মাস ধরে অরুণাচলে অবৈধ অভিবাসন রোধে প্রচার চালাচ্ছে এপিআইওয়াইও। নাহারলাগুনে একটি জামে মসজিদকে ‘অবৈধ নির্মাণ’ অভিযোগে বন্ধ ঘোষণা করলেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসে তারা তা প্রত্যাহার করে নেয়।
সংগঠনের নেতারা ইমামের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের দাবি, তিনি “অভিবাসী” এবং বাংলাদেশি মুসলিম হতে পারেন। অভিযোগ করা হয়, ১৮৭৩ সালের বেঙ্গল ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রেগুলেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ‘ইনার লাইন পারমিট’ ছাড়াই তিনি অরুণাচলে প্রবেশ করেছেন।
দেশজুড়ে ভিডিওটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও অরুণাচল পুলিশ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। তদন্ত শুরু হবে কি না, তাও নিশ্চিত করা হয়নি।