ভয় নয়, জনগণকে সাহস নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে বললেন প্রধান উপদেষ্টা
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
ভোটগ্রহণ শুরু হতে আর মাত্র এক দিন বাকি থাকায় দেশবাসীর প্রতি সাহসী আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ভয় নয়, বরং সাহসকে সঙ্গী করে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য জনগণের প্রতি জোরালো দাবি জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, একটি ভোট কেবল সরকার গঠনের সিদ্ধান্তই নয়, বরং দীর্ঘদিনের নীরবতা, অনিয়ম ও স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণের জবাব। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের তরুণ, নারী ও সংগ্রামী জনগণের কণ্ঠ আবারও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, এবার রেকর্ডসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসম্পন্ন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্বে রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা কঠোরভাবে দমন করা যায়।
নিরাপত্তা জোরদারে প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রথমবারের মতো সারাদেশে ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা বডি ক্যামেরা ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি ড্রোন ও ডগ স্কোয়াডও মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে ও সম্মানের সঙ্গে ভোট দিতে পারেন।
নির্বাচনকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা এবার দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অংশ নিতে পারছেন, যা গণতন্ত্রের পরিসরকে আরও বিস্তৃত করেছে।
একই সঙ্গে সরকারি কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং কারাগারে থাকা যোগ্য নাগরিকদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
ভোটাধিকার সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা শুধু সরকারের নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, কেউ যেন সহিংসতা, ভয়ভীতি, কেন্দ্র দখল বা গুজব ছড়ানোর মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত না হয়। রাষ্ট্র এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই সহ্য করবে না।
ভাষণের শেষাংশে তিনি বলেন, ইতিহাস সাক্ষী—ত্রুটিপূর্ণ ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন শেষ পর্যন্ত দেশের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করলে তার কঠিন জবাব জনগণের কাছ থেকেই আসবে।