প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকলেও ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গ্রেপ্তার, কারাবন্দি হওয়া কিংবা প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকলেও আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই তিনি বাংলাদেশে ফিরতে চান। নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ সচেতন বলেও মন্তব্য করেছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে ই-মেইলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা বলেন, তাকে হত্যা করা হতে পারে, গ্রেপ্তার করা হতে পারে কিংবা কারাগারে পাঠানো হতে পারে। এরপরও তিনি দেশে ফিরতে চান, কারণ তার দাবি, দেশের মানুষ তাকে ডাকছে।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটার পর প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ছেড়ে হেলিকপ্টারে করে ভারতে যান শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে সর্বোচ্চ এক হাজার ৪০০ জন পর্যন্ত নিহত হতে পারেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত নভেম্বরে ঢাকার একটি আদালত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। তবে তিনি এ রায়কে ‘আইনের পোশাকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বর্তমানে ভারতের একটি গোপন স্থানে অবস্থান করছেন বলেও সাক্ষাৎকারে জানান তিনি।
শেখ হাসিনার ভাষ্য, বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে তার ওপর কোনো চাপ নেই। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যর্পণ আবেদনের সঙ্গে তার দেশে ফেরার সিদ্ধান্তের কোনো সম্পর্ক নেই। তার দাবি, ভারতে তিনি সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে অবস্থান করছেন এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে তার সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি।
দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন, বিচারব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তার, বিরোধীদের হত্যা এবং একতরফা নির্বাচন আয়োজনের অভিযোগ তুলে আসছে। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে শেখ হাসিনা বলেন, অভিযোগগুলোর অনেকই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার অংশ। তার দাবি, অভিযোগ উঠলে তদন্ত করা হয়েছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি। শেখ হাসিনার দাবি, তার সরকার সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করেছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজেছে। তার মতে, এটি শুধু একটি সাধারণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না; বরং সরকার উৎখাতের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত সহিংসতা ও অপপ্রচারের অংশ ছিল।
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম কার্যত নিষিদ্ধ থাকার প্রেক্ষাপটে দেশে ফিরে আবার সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরবেন কি না- এ প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেননি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ক্ষমতা অর্জন তার লক্ষ্য নয়; মানুষের সেবা করাই তার উদ্দেশ্য।
আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাননি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যারা তাদের স্বজন হারিয়েছেন, তাদের প্রতি তার গভীর সহানুভূতি রয়েছে। তবে আন্দোলনের সময় নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা আছে কি না- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার সিদ্ধান্ত কোনো একক ব্যক্তির নয় এবং পুরো পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তকে আলাদা করে বিচার করা সঠিক হবে না।
সূত্র: এনডিটিভি