এমপি নজরুলকে ঘিরে সামনে এলো আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে এবার আরও বেশ কয়েকটি নতুন অভিযোগ সামনে এসেছে। তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও আলোচিত তরুণীর মামা ওবায়দুর রহমান চাকরি, সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়া, ঠিকাদারি লাইসেন্সের ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখানোর অভিযোগ তুলেছেন।
বুধবার (২৯ জুলাই) এক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ওবায়দুর রহমান দাবি করেন, এসব ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাকে অর্থ, পদ-পদবি ও অন্যান্য সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি কোনো প্রস্তাব গ্রহণ না করে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত নেন।
তার অভিযোগ, আত্মীয়তার সূত্রে গাজী নজরুল ইসলাম আলোচিত তরুণীর পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ থেকেই রাজধানীর পল্লবীতে ওই পরিবারের বাসায় তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এমনকি সংসদ সদস্যদের সরকারি হোস্টেলে ফ্ল্যাট বরাদ্দ পাওয়ার পরও তিনি সেখানে যেতেন বলে দাবি করেন ওবায়দুর রহমান।
তিনি আরও বলেন, গভীর রাতে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের বিষয়টি সন্দেহের জন্ম দেয়। পরে অনুসন্ধান করে জানতে পারেন, গোপন যোগাযোগের জন্য তরুণীকে আলাদা একটি মোবাইল ফোন দেওয়া হয়েছিল। ওই ফোনে ব্যবহৃত সিম শ্যামনগরের এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের নামে নিবন্ধিত ছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
ওবায়দুর রহমানের ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে তাকে প্রথমে অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে একটি নোয়া গাড়ি, সংসদ ভবনে চাকরি, সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস-২) হিসেবে পরিচয় এবং কথিত ‘মুতা বিয়ে’র প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আলোচিত তরুণীর বাবা মাসুম বিল্লাহকে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দিতে সংসদ সদস্যের প্রভাব ব্যবহার করা হয়েছে। ‘মাসুম এন্টারপ্রাইজ’ নামে একাধিক প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি লাইসেন্স সংগ্রহ এবং সরকারি কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ওবায়দুর রহমান জানান, অনিয়মের প্রতিবাদ করায় গত ১৪ জুলাই তার ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ২১ জুলাই রাজধানীর পল্লবী থানায় গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মামলার দুজন আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলেও তিনি জানান।
তার দাবি, জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি সত্য গোপন করেননি এবং কোনো ধরনের প্রলোভনে রাজি হননি। এ কারণে নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে, গত ২২ জুলাই নৈতিকস্খলনের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয়ভাবে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। এরপর থেকে তার নির্বাচনি এলাকা শ্যামনগরে প্রতিবাদ কর্মসূচি জোরদার হয়। মঙ্গলবার সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ এবং কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় বক্তারা তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গাজী নজরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।