ভারতে পালানোর সময় যশোর সীমান্তে গ্রেপ্তার চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
ভারতে পালানোর চেষ্টা করার সময় যশোরের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে তাকে ধরতে নজরদারি ও বিশেষ অভিযান চালিয়ে আসছিল চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপুলিশ পরিদর্শক নাজিমুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, ডেভিড ইমন সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরপর যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় বুধবার গভীর রাতে ঝিকরগাছা উপজেলার ধুমধুমপুর সীমান্তসংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি জানান, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে নেওয়া হবে। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অপরাধচক্র সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করবে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে বিশেষ অভিযান চলছিল। গত দুই সপ্তাহে ফটিকছড়িসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে তার বাহিনীর কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
নাজিমুল হক বলেন, সন্ত্রাসমুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ডেভিড ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অন্যান্য সহযোগীদের ওপরও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
পুলিশের দাবি, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, সশস্ত্র হামলা, আধিপত্য বিস্তার এবং সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি তাকে ধরতে জেলার বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। একই সময়ে তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীকেও অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া সম্প্রতি একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং হামলার ঘটনায়ও ডেভিড ইমনের নাম উঠে আসে। ওই ঘটনার পর তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, ডেভিড ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র, অস্ত্র সরবরাহ, চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক এবং বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, চট্টগ্রামে সক্রিয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক নির্মূলে অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে ডেভিড ইমনের পলাতক ও সক্রিয় সহযোগীদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে।