৩০ এপ্রিলের পর দেশজুড়ে মাদক ও জুয়া বিরোধী সমন্বিত অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
আগামী ৩০ এপ্রিলের পর সারা দেশে মাদক, জুয়া এবং অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে পুলিশের গোয়েন্দা ও অপরাধ বিভাগ অবৈধ সিসা বার ও লাউঞ্জ বন্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
আজ জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের উত্থাপিত জরুরি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট নোটিশের জবাবে তিনি এসব কথা জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। রাজধানীর অভিজাত এলাকায় আবাসিক ভবন, রেস্তোরাঁ ও ক্যাফের আড়ালে গড়ে ওঠা অবৈধ সিসা লাউঞ্জ বন্ধের বিষয়টি নোটিশে তুলে ধরা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংশোধিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী সিসা খ শ্রেণির মাদক হিসেবে তালিকাভুক্ত। সরকার মাদককে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে তা নির্মূলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, অবৈধ সিসা লাউঞ্জ চালু রাখতে মালিকদের দায়ের করা পাঁচটি রিট মামলা আপিল বিভাগের অন্তর্বর্তী আদেশে বাতিল হয়েছে। ২০১৬ সালের নির্দেশনার আলোকে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে এসব লাউঞ্জ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে।
গত ১৬ এপ্রিল রাতে রাজধানীর গুলশান দুই এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি সিসা বার থেকে প্রায় পাঁচ কেজি সিসা ও ৩৫টি হুক্কা জব্দ করা হয়। একই এলাকায় আরেকটি লাউঞ্জে অভিযান চালিয়ে চার কেজি সিসা ও আটটি হুক্কা জব্দ করা হয়েছে।
অবৈধ সিসা লাউঞ্জগুলো যাতে নাম ও ঠিকানা পরিবর্তন করে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করতে না পারে, সে জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে পরিচালিত অবৈধ সিসা লাউঞ্জের বিষয়টি সিটি করপোরেশনের নজরেও এসেছে। জনস্বাস্থ্য ও আইনশৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় এসব কার্যক্রম কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও তদারকির মাধ্যমে অবৈধ লাউঞ্জ শনাক্ত ও বন্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথ অভিযানও পরিচালনা করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে রাজধানীর অভিজাত এলাকায় আবাসিক ভবন, রেস্তোরাঁ ও ক্যাফের আড়ালে ব্যাপকভাবে সিসা বার গড়ে ওঠে। প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অসাধু ব্যবসায়ীদের ছত্রছায়ায় সেখানে মাদক সেবন ও কেনাবেচাসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলত।
তিনি আরও জানান, ঠিকানা পরিবর্তন বা আড়ালে লাউঞ্জ পরিচালনা ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে ভবন মালিকদের সচেতন করা হচ্ছে। কোনো পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।