চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন: মেয়াদ শেষ হলেও মেয়র পদে শাহাদাত হোসেন
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৪ পিএম
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত পরিষদের পাঁচ বছরের মেয়াদ গত ২২ ফেব্রুয়ারি শেষ হলেও আদালতের রায়ে মেয়র ঘোষিত বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন এখনো মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে তৈরি হয়েছে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা।
শাহাদাত হোসেন দাবি করেছেন, আদালতের আদেশে মেয়র ঘোষিত হওয়ার পর তিনি ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই হিসেবে তার মেয়াদ ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত চলবে বলে তিনি মনে করেন।
তবে স্থানীয় সরকার বিভাগের নথি ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২১ সালে নির্বাচিত পরিষদের সঙ্গে মেয়র পদেও একই মেয়াদ প্রযোজ্য ছিল, যা ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। তাদের ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে, পরে শপথ নিলেও আলাদা করে নতুন মেয়াদ পাওয়ার সুযোগ নেই।
এর আগে গত মার্চে সরকার ঢাকার দুই সিটিসহ ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। তখন মেয়াদ শেষ হওয়ায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের প্রস্তাবও তৈরি হয়েছিল, তবে তা আর বাস্তবায়ন হয়নি।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সর্বশেষ নির্বাচন হয় ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি। ওই নির্বাচনে মেয়র হিসেবে জয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। পরে নির্বাচনী বিরোধের জেরে আদালতের রায়ে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করা হয় এবং ৩ নভেম্বর তিনি শপথ নেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নথিতে বলা হয়েছে, আদালতের রায়ে শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করা হলেও তার মেয়াদের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই। আইন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের মেয়াদ প্রথম সভা থেকে পাঁচ বছর, যা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সরকার আইন সংশোধনের ফলে মেয়াদ শেষ হলেও আগের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিষদ বহাল থাকার সুযোগও নেই বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী তিনি বৈধ মেয়র এবং তার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত। এই আদেশ পরিবর্তন করতে হলে আবার আদালতের রায় প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় পরবর্তী সময়ে মেয়র পদে থাকলেও সেই মেয়াদের বাইরে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার আইনি ভিত্তি নেই।
সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ ঘিরে তৈরি হয়েছে জটিলতা, যেখানে আইন, আদালতের রায় এবং প্রশাসনিক ব্যাখ্যা একে অপরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থায় রয়েছে।