বছিলা পশুর হাটের ইজারা বিরোধে গুলিতে নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম
রাজধানীর বছিলা পশুর হাটের ইজারা নিয়ে বিরোধের জেরে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নঈম আহমেদ টিটন ওরফে নাঈম আহমেদ টিটনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে নিহতের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন নিউমার্কেট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাত ৮-৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগে বলা হয়, বছিলা পশুর হাটের ইজারা নিয়ে ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, বাদল ওরফে কিলার বাদল বা কাইলা বাদল, শাহজাহান এবং রনি ওরফে ডাগারি রনির সঙ্গে টিটনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে প্রকাশিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় টিটনের অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তিনি জামিনে মুক্তি পান।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, কারামুক্তির পর টিটন পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং নতুনভাবে সৎ পথে জীবন শুরু করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। কয়েকদিন আগে তিনি হাটের ইজারার কাগজপত্র কিনে ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনার কথাও জানান।
গত ২৬ এপ্রিল তিনি তার ভাইকে জানান, বছিলা পশুর হাটের ইজারা নিয়ে হেলাল, বাদল, শাহজাহান ও রনির সঙ্গে বিরোধ চলছে। পরদিন ২৭ এপ্রিল তিনি জানান, বিরোধ মীমাংসার জন্য তাকে একটি বৈঠকে ডাকা হয়েছে।
এরপর মঙ্গলবার রাতের দিকে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, নিউমার্কেট এলাকার শাহনেওয়াজ হলের সামনে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় টিটনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে শুধু ইজারা বিরোধ নয়, আন্ডারওয়ার্ল্ডে আধিপত্য বিস্তার নিয়েও পুরনো দ্বন্দ্ব থাকতে পারে। ঘটনার তদন্তে এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যার দিন একাধিক দল পরিকল্পিতভাবে টিটনকে অনুসরণ করে। সুলতানগঞ্জ এলাকা থেকে বের হওয়ার পর তাকে নজরদারিতে রাখা হয়। পরে নিউমার্কেট এলাকার বটতলার কাছে মোটরসাইকেলে আসা একটি দল তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর পুরান ঢাকার একটি এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈফ মামুনকে হত্যা করা হয়। তদন্তে জানা যায়, পুরনো বিরোধের জেরেই সেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল।
পুলিশ ধারণা করছে, সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে নতুন করে বিরোধ তৈরি হওয়ায় টিটন হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে।
বুধবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গ থেকে টিটনের মরদেহ গ্রহণ করেন তার বড় ভাই রিপন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, মৃত্যুর কয়েকদিন আগে টিটন তাকে বছিলা গরুর হাট নিয়ে পিচ্চি হেলালের সঙ্গে বিরোধের কথা বলেছিলেন।