খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ উপহার দেওয়া সেই সোহাগ মৃধা গ্রেপ্তার
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার দেওয়া আলোচিত ষাঁড় ‘কালো মানিক’-এর মালিক সোহাগ মৃধাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের মহিষকাটা বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া সোহাগ মৃধা উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামের মৃত বেলায়েত হোসেন মৃধার ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মির্জাগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মো. কাওসার আহমেদ।
পুলিশ জানিয়েছে, সোহাগ মৃধার বিরুদ্ধে মারামারি ও অশ্লীল চিত্র-ভিডিও সংক্রান্ত আইনে দুটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় তিনি প্রধান আসামি এবং অপর মামলায় সহযোগী আসামি হিসেবে অভিযুক্ত। এসব মামলার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, সংশ্লিষ্ট দুই মামলায় সোহাগ মৃধাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তবে সোহাগ মৃধার পরিবারের দাবি, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সোহাগের মা রিনা বেগমকে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে প্রতিপক্ষ মামলা দায়ের করলে সেই মামলায় তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি পরিবারের।
এদিকে রিনা বেগমের একটি ভিডিও বক্তব্যও সামনে এসেছে, যেখানে তিনি ছেলে ও মেয়ের বিরুদ্ধে তাকে মারধরের অভিযোগ করেছেন।
সোহাগ মৃধা মূলত আলোচনায় আসেন তার পালিত বিশাল আকৃতির ষাঁড় ‘কালো মানিক’-কে কেন্দ্র করে। প্রায় সাত বছর আগে কেনা একটি গাভীর বাছুর হিসেবে জন্ম নেওয়া ষাঁড়টি যত্নে লালন-পালন করে বড় করেন তিনি। প্রায় এক হাজার ৮০০ কেজি ওজনের এই ষাঁড়টির দৈর্ঘ্য ১১ ফুট এবং উচ্চতা ৬ ফুট বলে জানা যায়।
বিএনপির রাজনীতির প্রতি ভালোবাসা থেকে গত বছরের ৫ জুন তিনি ‘কালো মানিক’কে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য উপহার হিসেবে ঢাকায় নিয়ে যান। পরে খালেদা জিয়া ষাঁড়টি গ্রহণ করে তা সোহাগের ছেলে জিসান মৃধার কাছে ফিরিয়ে দেন। ওই সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও ভিডিও কলে কথা বলার সুযোগ পান সোহাগ মৃধা ও তার পরিবার।
পরবর্তীতে পবিত্র ঈদুল আজহার আগে ‘কালো মানিক’কে রাজধানীর একটি পশুর হাটে বিক্রির জন্য তোলা হলে সেটি কিনে নেন শিল্পপতি ফাহিম আল চৌধুরী। এরপর থেকেই ষাঁড়টি এবং এর মালিক সোহাগ মৃধা ব্যাপক আলোচনায় আসেন।