সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের কঠোর সতর্কবার্তা শিক্ষা উপদেষ্টার
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৩২ পিএম
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। তিনি বলেন, ‘মাধ্যমিকের শিক্ষকেরা আন্দোলনের নামে যে কার্যক্রম করছেন, তা সরকারি আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল। এই লঙ্ঘনের জন্য আপনাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। সরকার খুবই দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।’
সোমবার (১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা জানান, বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে—কোনো কোনো বিদ্যালয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও অনেক বিদ্যালয়ে তা হয়নি—এটা অত্যন্ত অনভিপ্রেত। তিনি বলেন, নবম গ্রেডে উন্নীত হওয়ার যে দাবি শিক্ষকরা তুলছেন, তা অন্যায় ও অযৌক্তিক। কারণ তারা চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় জানতেন যে তাদের পদ দশম গ্রেডে থাকবে। সেই অবস্থান থেকে হঠাৎ নবম গ্রেড দাবি চাকরির শর্তের সঙ্গে যায় না।
তিনি আরও বলেন, নবম গ্রেডে সাধারণত বিসিএস অ্যাডমিন ক্যাডারের কর্মকর্তারা যোগ দেন। তাই এটা একক কোনো মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত নয়; এটি আন্তঃমন্ত্রণালয়ভুক্ত একটি বিষয়। ফলে যে কেউ ইচ্ছেমতো এ পদে যেতে পারবেন না।
উপদেষ্টা অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষকরা এমন সময়ে এই দাবি তুলেছেন যখন স্কুলে বার্ষিক বা টেস্ট পরীক্ষা চলছে। তারা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বন্ধ রেখে দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীদের ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করছেন, যা শিক্ষক পরিচয়ের সঙ্গে যায় না এবং এটি চরম অনৈতিক।
তিনি স্পষ্টভাবে জানান, সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের অযৌক্তিক দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। শিক্ষকরা মঙ্গলবার থেকেই পরীক্ষা নিতে বাধ্য—অন্যথায় সরকারি চাকরির বিধিভঙ্গের কারণে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার পরীক্ষার বিষয়ে কোনো আপস করবে না। পরীক্ষার চাপ যাতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ওপর না পড়ে, সে বিষয়েও সরকার সজাগ।
উপদেষ্টা আরও জানান, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে—শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা পরীক্ষা দিতে আগ্রহী, কিন্তু কেবল একটি অংশের শিক্ষক পরীক্ষা নিচ্ছেন না। তিনি সতর্ক করে বলেন, শিক্ষকরা অবশ্যই তাদের স্কুলের পরীক্ষা গ্রহণ করবেন, নইলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।