২০২৫ সালে ৫ লাখ সেনা হারিয়েছে ইউক্রেন: রাশিয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৩৪ এএম
রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত রুশ বাহিনীর সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেন প্রায় ৫ লাখ সেনা হারিয়েছে। এই বিপুল ক্ষতি নিকট ভবিষ্যতে পূরণ করা কিয়েভের পক্ষে সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেছে মস্কো।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলৌসোভ গতকাল বুধবার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব তথ্য তুলে ধরেন। রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম রাশিয়ান টেলিভিশন (আরটি) জানায়, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বোর্ড সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, চলতি বছরের শুরু থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে, যার প্রভাব দেশটির সামরিক সক্ষমতার ওপর পড়ছে।
বেলৌসোভ বলেন, বিপুলসংখ্যক সেনা নিহত হওয়ায় ইউক্রেনে বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে যোগদানের বিষয়ে বেসামরিক জনগণের আগ্রহ কমে গেছে। ফলে নতুন করে বাহিনী সংগঠিত করা কিয়েভের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে।
রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও জানান, শুধু জনবল নয়, চলতি বছরে ইউক্রেন এক লাখ তিন হাজারের বেশি সমরাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার ৫০০টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান রয়েছে, যেগুলোর বেশিরভাগই পশ্চিমা দেশগুলোর দেওয়া সহায়তার অংশ ছিল।
উল্লেখ্য, ক্রিমিয়া ইস্যু ও ন্যাটোতে যোগদানের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী পুরুষদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
যুদ্ধের শুরুতে সেনাবাহিনীতে যোগদানের ন্যূনতম বয়স ছিল ২৭ বছর, যা পরে কমিয়ে ২৫ বছর করা হয়। তবে বাধ্যতামূলকভাবে সেনা সংগ্রহের অভিযোগে গত এক বছরে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো জানায়নি ইউক্রেন।