শুল্কের ভয় দেখিয়ে ১০ মাসে ৮টি যুদ্ধ থামিয়েছি: ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৩৫ এএম
শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আটটি যুদ্ধ থামাতে সক্ষম হয়েছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘শুল্ক’ তার সবচেয়ে প্রিয় শব্দ, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে।
ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে একজন বিদেশিও অবৈধভাবে প্রবেশ করতে পারেননি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি গত ১০ মাসে আটটি যুদ্ধ সমাধান করা হয়েছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, তার নেতৃত্বে ইরানের পারমাণবিক হুমকি ধ্বংস করা হয়েছে এবং গাজা যুদ্ধে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ৩ হাজার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো শান্তি এসেছে।
নিজের প্রশাসনের সাফল্যের পেছনে শুল্ক নীতির বড় ভূমিকা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, তার আক্রমণাত্মক বাণিজ্যনীতি কিছু পণ্যের দাম বাড়িয়েছে এবং ভোটারদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষও তৈরি করেছে।
ট্রাম্প বলেন, শুল্ক নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যে ১৮ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ নিশ্চিত হয়েছে। আমদানি শুল্ক এড়াতে বহু কোম্পানি দেশে ফিরে এসেছে, ফলে উৎপাদন বেড়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমোবাইল খাতেও নজিরবিহীন অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘বড় ও সুন্দর বিল’ পাস হওয়ার পর বকশিশ, অতিরিক্ত সময়ের মজুরি ও সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধার ওপর কোনো কর আরোপ করা হয়নি। এতে একটি পরিবার বছরে ১১ হাজার থেকে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারবে।
অবৈধ অভিবাসন প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, গত সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো অবৈধ অভিবাসী প্রবেশ করতে পারেনি, যা অনেকেই অসম্ভব বলে মনে করেছিলেন।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সীমান্ত নীতির সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, সীমান্ত নিরাপদ করতে নতুন আইন নয়, নতুন প্রেসিডেন্টের প্রয়োজন ছিল। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এখন ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।
এ ছাড়া মার্কিন সেনাদের জন্য এককালীন ১ হাজার ৭৭৬ ডলার ভাতা দেওয়ার ঘোষণাও দেন ট্রাম্প। ১৪ লাখ ৫০ হাজারের বেশি সেনা বড়দিনের আগেই এই অর্থ পাবেন বলে জানান তিনি।
এর আগেও ট্রাম্প একাধিকবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাত থামানোর কৃতিত্ব দাবি করেছেন। তবে ভারত-পাকিস্তানসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে তার দাবিকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে।