ড. ইউনুস শাসনের অবসান, ভারতীয় গণমাধ্যমের স্বস্তি প্রকাশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব সমাপ্তির পর ভারতের কয়েকটি মূলধারার গণমাধ্যম তার শাসনকালকে অস্থিতিশীল এবং ভারতবিরোধী নীতি সমৃদ্ধ বলে চিহ্নিত করেছে।
ফার্স্টপোস্ট, ইন্ডিয়া ডট কম, দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস ও এনডিটিভি–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড. ইউনূসের প্রশাসনের কোনো জনম্যান্ডেট ছিল না এবং নীতিনির্ধারণের সময়ে নয়াদিল্লিকে উপেক্ষা করা হয়েছিল। পাশাপাশি তারিক রহমানের নেতৃত্বে নবনির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় সমালোচনা হয়েছে।
ভারতের গণমাধ্যমগুলো ড. ইউনূসের বিদায়ী ভাষণকেও গুরুত্ব দিয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমস ও এনডিটিভি তার “সেভেন সিস্টার্স” উল্লেখ এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির “আর নতজানু নয়” মন্তব্যকে দিল্লি-ঢাকা সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করেছে। সামরিক আধুনিকায়ন ও চীনা বিনিয়োগের প্রসঙ্গকেও সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখানো হয়েছে।
ফার্স্টপোস্ট ড. ইউনূসের আন্তর্জাতিক সফর ও সার্ক পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগকে “অবাস্তব” হিসেবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে, দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ইন্ডিয়া ডট কম অন্তর্বর্তী সময়কে চরমপন্থা বৃদ্ধির সময় হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিশেষ করে ইন্ডিয়া ডট কম প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ড. ইউনূসের শাসনকালে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যদিও নির্দিষ্ট তথ্যসূত্র উপস্থাপন করা হয়নি।
কাঠামোগত সংস্কার কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কিছু গণমাধ্যম। ফার্স্টপোস্ট জুলাইয়ের আন্দোলনের নেতাদের “উগ্রপন্থী” আখ্যা দিয়ে দাবি করেছে, জনম্যান্ডেটবিহীন একজন নেতা গভীর পরিবর্তন এনেছেন। এনডিটিভিতে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রীর মতামতও প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ড. ইউনূসকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতির জন্য দায়ী করা হয়েছে। তবে শটিফাই–এর অনুসন্ধানে কিছু দাবি ভিন্ন প্রমাণিত হয়েছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনকাল নিয়ে ভারতের এই বিশ্লেষণ ও ভাষ্য দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন বিতর্কের দিকে ঠেলে দিয়েছে।