এবার ব্রেক ফেল করে দুমড়ে-মুচড়ে গেল ভারতীয় যুদ্ধবিমান তেজস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
আবারও দুর্ঘটনার কবলে পড়ল ভারতীয় যুদ্ধবিমান তেজস। সেনাঘাঁটিতে অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে গিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায় বিমানটি। তবে দুর্ঘটনার মুহূর্তে পাইলট দ্রুত বেরিয়ে আসতে সক্ষম হওয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবুও ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির কারণে বিমানটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারতের সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের বরাতে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুর দিকে বিমানবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রশিক্ষণ শেষে ঘাঁটিতে ফিরছিল তেজস যুদ্ধবিমানটি। অবতরণের সময় ব্রেক কাজ না করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় পাইলট দরজা খুলে লাফিয়ে পড়েন। এতে তিনি অক্ষত থাকলেও বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে দূরে গিয়ে আছড়ে পড়ে।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর তেজস বিমানের নিরাপত্তা ও যান্ত্রিক ত্রুটি খতিয়ে দেখতে তৎপর হয়েছে ভারতীয় বিমানবাহিনী। প্রায় ৩০টি এক আসনবিশিষ্ট তেজস সাময়িকভাবে উড্ডয়ন থেকে বিরত রাখা হয়েছে। সেগুলোতে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করা হবে। বিশেষজ্ঞদের অনুমোদন মিললে পুনরায় ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হিন্দুস্থান এরোনটিক্স লিমিটেডকে ৮৩টি তেজস যুদ্ধবিমান তৈরির অনুমোদন দেয়। এ চুক্তির পরিমাণ ছিল ৪৮ হাজার কোটি রুপি। পরে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আরও ৯৭টি তেজস তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়, যার চুক্তিমূল্য ৬২ হাজার কোটি রুপি। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরবরাহ সম্পন্ন করতে সংস্থাটি বারবার ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিদেশি ইঞ্জিন সরবরাহ জটিলতা বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তেজস যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে এটি তৃতীয় বড় দুর্ঘটনা। ২০২৪ সালের মার্চে রাজস্থানের জয়সালমেরের কাছে একটি তেজস বিধ্বস্ত হয়। সে সময়ও পাইলট প্রাণে রক্ষা পান। দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে দুবাইয়ে বিমান প্রদর্শনীর সময়, যেখানে প্রাণ হারান ভারতীয় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার নামান স্যাল।