ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা শত্রুর ধারণার চেয়েও শক্তিশালী: জেনারেল আলী আবদুল্লাহি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬, ১২:১৬ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আবারও নিজেদের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি বলেছেন, ইরানের সামরিক শক্তি সম্পর্কে শত্রুরাষ্ট্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে ভুল হিসাব করে আসছে এবং সেই ভুল ধারণার সময় এখন শেষের পথে।

রোববার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইরান কেবল কথার মাধ্যমে শক্তি প্রদর্শন করে না; বরং বাস্তব কর্মের মাধ্যমেই নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করে। তার মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দেখলে শত্রুরা বুঝতে পারবে তাদের ধারণা কতটা সীমিত ছিল।

জেনারেল আলী আবদুল্লাহি বিশেষভাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির বিষয়টি তুলে ধরেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রায়ই দাবি করে যে তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানে। তবে এই দাবিকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, শত্রুরা যদি সত্যিই ইরানের সামরিক শক্তি সম্পর্কে জানতে চায়, তাহলে যুদ্ধক্ষেত্রেই তাদের সেই হিসাব মিলিয়ে নিতে হবে।

তিনি জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। দেশের অস্ত্রভাণ্ডার এখন আগের তুলনায় আরও উন্নত, নির্ভুল ও শক্তিশালী। অতীতের যুদ্ধ ও সামরিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইরান তাদের সমরকৌশলকে নতুন মাত্রায় উন্নীত করেছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে শত্রুপক্ষ বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে সেই সক্ষমতার মুখোমুখি হচ্ছে।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, শত্রুপক্ষ প্রায়ই বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। নারী, শিশু ও সাধারণ পরিবারের ওপর আঘাত হানার ঘটনাকে তিনি বর্বরতা হিসেবে উল্লেখ করেন। এর বিপরীতে তিনি দাবি করেন, ইরান তাদের সামরিক অভিযানে সাধারণ মানুষের ক্ষতি এড়াতে সতর্ক থাকে এবং মূলত শত্রুর সামরিক ঘাঁটি ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করে।

জেনারেল আলী আবদুল্লাহি বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হলো আগ্রাসনের জবাব দেওয়া এবং আক্রমণকারীদের এমন বার্তা দেওয়া যাতে তারা নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত হয়। তার মতে, ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে দেশের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষায় কোনো আপসও করবে না।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনার পেছনে ২৮ ফেব্রুয়ারির একটি ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ওইদিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডারকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এরপর থেকেই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে।

ইরানের অভিযোগ, ওই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। এসব হামলায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে, যা তেহরান তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আগ্রাসন হিসেবে দেখছে।

এই পরিস্থিতির জবাবে ইরান উন্নত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে পাল্টা অভিযান শুরু করেছে। ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং দখলকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে হামলার খবর প্রকাশ পেয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এসব অভিযানের মাধ্যমে ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতার বাস্তব প্রদর্শন ঘটিয়েছে।

জেনারেল আলী আবদুল্লাহি বলেন, ইরান এখন কথার চেয়ে কাজে বেশি বিশ্বাস করে। দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় যে কোনো আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে এবং শত্রুরা যতদিন আক্রমণ চালাবে, ততদিন ইরানের প্রতিরোধও অব্যাহত থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন দ্রুত সংঘাতের অবসানের আশা করছে, তবুও তেহরানের দৃঢ় অবস্থান পরিস্থিতিকে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে রূপ দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970