অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে প্রথম নারী সেনাপ্রধান হিসেবে সুসান কয়েলের নিয়োগ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীতে বড় ধরনের নেতৃত্ব পরিবর্তন হয়েছে। দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারী সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।
সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে চিফ অব জয়েন্ট ক্যাপাবিলিটিজ পদে থাকা লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কয়েল আগামী জুলাই মাসে সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইমন স্টুয়ার্টের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এক বিবৃতিতে বলেন, অস্ট্রেলিয়ার ১২৫ বছরের সেনা ইতিহাসে এই প্রথম একজন নারী সেনাপ্রধান পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস এই নিয়োগকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সুসান কয়েলের এই অর্জন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীতে কর্মরত নারীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হবে। ভবিষ্যতে যারা সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চান, তাদের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে।
৫৫ বছর বয়সী সুসান কয়েল ১৯৮৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং দীর্ঘ কর্মজীবনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি হবেন সেনাবাহিনীর যেকোনো শাখার নেতৃত্ব দেওয়া প্রথম নারী।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নারীদের অংশগ্রহণ প্রায় একুশ শতাংশ এবং শীর্ষ নেতৃত্বে এই হার আঠারো দশমিক পাঁচ শতাংশ। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার পঁচিশ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে।
এই নিয়োগ এমন সময়ে হলো, যখন দেশটির সামরিক বাহিনী নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ও সংস্কার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।
এর আগে গত অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিরুদ্ধে একটি মামলায় অভিযোগ ওঠে, হাজার হাজার নারী সদস্যকে যৌন হয়রানি ও বৈষম্য থেকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে সরকার নৌবাহিনীর বর্তমান প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল মার্ক হ্যামন্ডকে নতুন অস্ট্রেলিয়ান প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তিনি অ্যাডমিরাল ডেভিড জনস্টনের স্থলাভিষিক্ত হবেন। নৌবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল ম্যাথিউ বাকলি।