হরমুজের তলদেশের ইন্টারনেট ক্যাবলে টোল আরোপের পরিকল্পনা ইরানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির সমুদ্রতলের ইন্টারনেট ক্যাবল থেকে রাজস্ব আদায়ের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী–ঘনিষ্ঠ মহলে। জ্বালানি পরিবহন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পাশাপাশি এবার এই জলপথকে ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বাহিনী–ঘনিষ্ঠ বার্তা সংস্থা তাসনিম সম্প্রতি “হরমুজ প্রণালির ইন্টারনেট ক্যাবল থেকে রাজস্ব আয়ের তিনটি বাস্তবসম্মত উপায়” শীর্ষক একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, এই প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বৈশ্বিক তথ্য ও আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হয়।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও ইরান এখনো এই খাত থেকে পূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা নিতে পারেনি।
নিবন্ধে তিনটি সম্ভাব্য পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে লাইসেন্স ও নবায়ন ফি আদায়, আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থানীয় নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য করা এবং সমুদ্রতলের ক্যাবলের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের দায়িত্ব দেশীয় প্রতিষ্ঠানের হাতে একচেটিয়াভাবে দেওয়া।
তাসনিমের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে হরমুজ প্রণালি ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হতে পারে।
এদিকে একই ঘনিষ্ঠ মহলের আরেক সংবাদমাধ্যম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে হরমুজ প্রণালিকে “লুকানো ডিজিটাল মহাসড়ক” হিসেবে উল্লেখ করে। সেখানে বলা হয়, বিশ্বের প্রায় সব আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট যোগাযোগ সমুদ্রতলের ক্যাবলের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং এটি বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।
প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করা হয়, এসব ক্যাবলে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে দাবি করা হয়, হরমুজ প্রণালির একটি বড় অংশ এমন এলাকায় অবস্থিত যেখানে ইরান সার্বভৌম কর্তৃত্ব প্রয়োগের অধিকার রাখে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় সমুদ্রতলের ক্যাবলের মাধ্যমে তথ্য আদান–প্রদানে অনুমতি ও টোল ফি বাধ্যতামূলক করার বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইরানের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে পারস্য উপসাগর অঞ্চলের সমুদ্রতলের ক্যাবল ও ক্লাউড অবকাঠামোর মানচিত্র তুলে ধরা হয়, যেখানে বিভিন্ন উপসাগরীয় দেশের ইন্টারনেট সংযোগ রুট বিশ্লেষণ করা হয়।
সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই দেশগুলো ইরানের তুলনায় সমুদ্রতলের ইন্টারনেট ক্যাবলের ওপর বেশি নির্ভরশীল। ফলে এসব অবকাঠামো ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংঘাতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।