বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা পাকিস্তানের!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান। দেশটির নৌবাহিনীর কর্মকর্তা কমোডর ওমর ফারুক সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার দৈনিক ‘দ্য মর্নিং’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ জুন) ওই সাক্ষাৎকারের বরাতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি পাকিস্তান নৌবাহিনীর জন্য ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ নামের একটি সাবমেরিন নির্মাণ করেছে চীন। ইতোমধ্যে সাবমেরিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জানা গেছে, সাবমেরিনটি পাকিস্তানে নিয়ে আসার জন্য নৌবাহিনীর একটি বহরের নেতৃত্ব দেন কমোডর ওমর ফারুক। ফেরার পথে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে যাত্রাবিরতির সময় তিনি ‘দ্য মর্নিং’-কে সাক্ষাৎকার দেন।
সাক্ষাৎকারে কমোডর ওমর ফারুক বলেন, ‘হ্যাঙ্গর’ শ্রেণির সাবমেরিন অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে পাকিস্তান। তিনি আরও জানান, ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ সিরিজের আরও সাতটি সাবমেরিন শিগগিরই পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যুক্ত হবে এবং এসব সাবমেরিন বঙ্গোপসাগরে দেশটির উপস্থিতি বজায় রাখতে ভূমিকা রাখবে।
ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের একটি সাবমেরিন মোতায়েন ছিল, যার নামও ছিল ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’। মুক্তিযুদ্ধের সময় এটি ভারতীয় নৌবাহিনীর ‘আইএনএস খুকরি’কে ডুবিয়ে দেয়। তবে যুদ্ধে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর কাছে পরাজয়ের পর পাকিস্তান বঙ্গোপসাগর থেকে তাদের নৌ উপস্থিতি প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর থেকে দেশটির নৌবাহিনীর কার্যক্রম মূলত উত্তর আরব সাগরকেন্দ্রিক ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, বঙ্গোপসাগর দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অঞ্চল। বিশাখাপত্তনমে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় নৌ কমান্ডের অবস্থান এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের নিকটবর্তী হওয়ায় এ অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। পাশাপাশি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও বঙ্গোপসাগরের গুরুত্ব উল্লেখযোগ্য।
বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং শ্রীলঙ্কা। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বিভিন্ন নৌ শক্তির প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এ অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান নৌবাহিনীর এই পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।